যশোরে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে একটি সরকারি অফিসের কর্মচারীকে মারধর ও নারী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ যুবলীগ নেতা ও তার তিন সহযোগীকে যশোর শহরের রেলস্টেশন এলাকা থেকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আটককৃতরা হলেন যশোর পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক একাধিক মামলার আসামি মেহবুব রহমান ম্যানসেল, রাকিব হোসেন ওরফে ভাইপো রাকিব, অনিক হাসান মেহেদী হাসান ও মীর সাদী। তাদের বাড়ি শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকায়। তারা সবাই যশোর সদর আসনের এমপির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
এদিকে এ ঘটনায় জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ গতকাল তাদের আদালতে হাজির করলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালাল কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যশোর প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট ডা. বাপ্পি শেখর জানান, গতকাল বেলা ১টার দিকে ম্যানসেল নামে একজন তাদের কেন্দ্রের চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। রেজিস্ট্রেশন করার পর তাকে কিছু ব্যায়াম দেখানো হয়। ব্যায়ামের পর একটি মেশিনে তার থেরাপি নেয়ার কথা। প্রতিষ্ঠানের কর্মী আল আমিন ওই মেশিনটি প্রস্তুত করে দেন। এ সময় অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মুনা আফরিন আল আমিনকে ডাক দিলে তিনি মেশিনটি চালু না করে দিয়েই চলে যান। এরপর ম্যানসেল ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আল আমিনকে ডেকে মারধর করেন। চিৎকার শুনে মুনা আফরিন নিচে নেমে এলে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় ম্যানসেলের লোকজন। অবশ্য পরে তারা মোবাইল ফোনটি ফিরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনে এমন পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি। অফিসে কর্মরত অবস্থায় এভাবে লাঞ্ছিত হব কখনো ভাবতে পারিনি।’
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল আলম বলেন, ‘সরকারি অফিসে ঢুকে কাজে বাধা দেয়া, কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, কর্মচারীকে মারধর ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতে নিলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আটককৃতরা সবাই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।’










