শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ পালনের পর সারা দেশের শিক্ষার্থীদের আজ বেলা ২টায় শাহবাগে আসার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
গতকাল বেলা ২টার পর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার শাহবাগে অবরোধ শুরু করে সংগঠনটি। পরে রাত ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম, রংপুর, বরিশালে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। রাত ৮টার দিকে সারা দেশে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
গতকাল রাত ১০টায় শাহবাগ মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) দুপুর ২টায় বাংলাদেশের যত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে, স্কুল-কলেজ রয়েছে এবং স্বাধীনতাকামী জনগণ রয়েছে, প্রত্যেককে শাহবাগে হাদি চত্বরে এসে অবস্থান নেয়ার অনুরোধ রইল। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। লড়াই কঠোর থেকে কঠোর হবে।’
শাহবাগের কর্মসূচিতে নতুন করে চার দফা দাবি জানানো হয়—হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার ২৪ দিনের মধ্যে বিচার করা, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা, পতিত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফেরত না দিলে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় নেয়া, সিভিল-মিলিটারির আওয়ামী লীগের দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করা।
এর আগে শনিবার রাতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বেলা ২টার পর ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় বন্ধ করে দেয়। এতে শাহবাগ দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সরজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে বসে আছেন নেতাকর্মীরা। একটু পরপর স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় মঞ্চের নেতাকর্মীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘যেই হাদি জনতার, সেই হাদি মরে না’, ‘হাদি না মোদি, হাদি হাদি’ স্লোগান দিচ্ছেন।
হাদি হত্যার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু অবরোধ করেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। পরে সাড়ে ৫টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা সড়ক থেকে সরে গেলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।










