যশোর চেম্বার অব কমার্স নির্বাচনে ভোটারদের জাল আয়কর সনদ নিয়ে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। যশোরের সিনিয়র সহকারী জজ সুজাতা আমিন গতকাল মামলাটি খারিজ ও ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের  নির্দেশ দেন।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনের দুই দিন আগে গত ৪ জানুয়ারি মেসার্স পারভেজ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসানের (ভোটার নম্বর-৬৪২) করা মামলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন আদালত। মামলায় যশোর চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ডের আহ্বায়ক, (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) বোর্ডের দুই সদস্য এবং আলম ট্রেডার্সের মালিক মো. আলম, সরোয়ার ট্রেডার্সের মালিক গোলাম সরোয়ার, রহিম স্টোরের মালিক আব্দুর রহিম ও যশোর কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছিল। সিনিয়র সহকারী জজ স্থগিত আদেশ ও বিবাদীদের এক কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শফিকুল ইসলাম মিঠু জানান, গতকাল চেম্বার অব কমার্সের করা মামলাটি খারিজ করে দিয়ে আদালত ভোটার তালিকায় যদি অসংগতি থাকে তাহলে সেটি সংশোধন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসান জানান, মামলাটি খারিজ হওয়ার খবর জেনেছি। রায় হাতে পাওয়ার পর দেখব সেখানে কি নির্দেশনা এসেছে। তবে নতুন করে নির্বাচন করতে হলে আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এরই মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব ভোটারের আয়কর সনদ আসল কিনা তা যাচাই করার।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর পর গত ৭ জানুয়ারি যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৪ জানুয়ারি জাল আয়কর সনদ দিয়ে ভোটার করানো হয়েছে— এমন অভিযোগ এনে মেসার্স পারভেজ ট্রেডার্সের মালিক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে যশোরের আদালতে একটি মামলা করেন। এরপর আদালত এ নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর এ মামলায় গত ৮ জানুয়ারি ব্যবসায়ী ঐক্য প্যানেলের ১৮ জন বিবাদী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত হন। পরে ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদের ১৮ প্রার্থীও এ মামলার বিবাদী শ্রেণীভুক্ত হন।