দেড় যুগেরও বেশি সময় পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বিকাল ৪টায় তিনি কার্যালয়ে পৌঁছেন। এ সময় দলের সিনিয়র নেতারা তাকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।

তারেক রহমান গাড়ি থেকে নেমে ভবনের দোতলায় উঠে সরাসরি চলে যান বারান্দায়। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে নিচে অপেক্ষমাণ হাজারো নেতাকর্মীর উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এ সময় তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘আজ এখানে কোনো অনুষ্ঠান নেই। আপনাদের ভালোবাসায় আমি অভিভূত। রাস্তা বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অসুবিধা হবে। তাই আমরা চেষ্টা করব রাস্তাটি যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেয়ার জন্য, যেন সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব—আমরা সচেষ্ট হই, কোথাও যদি রাস্তায় এক টুকরো কাগজ পড়ে থাকে, ময়লা হয়ে থাকে তা আমরা সরিয়ে দেব। এভাবে ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে আসুন আমরা দেশটাকে গড়ে তুলি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে যখন কর্মসূচি থাকবে, আমি বক্তব্য রাখব। সবাই আমার ও খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন। আমিও দোয়া করি যে সবাই সুস্থ ও ভালো থাকুন। আমাদের যার যতটুকু অবস্থান আছে, সেখান থেকে আসুন আমরা আমাদের দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি।’ তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারেক রহমানের আগমনের খবরে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় দলীয় কার্যালয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান এর আগে ২০০৬ সালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। 

বেলা ৩টায় গুলশানের বাসভবন থেকে নয়াপল্টনের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। সাড়ে ৩টায় নয়াপল্টন এলাকায় পৌঁছলেও নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে তার গাড়িবহরের গতি ধীর হয়ে যায়। ভিড় ঠেলে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে তার আরো ৩০ মিনিট সময় লাগে।’

কার্যালয়ে পৌঁছলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান জানান, তারেক রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন কক্ষ তিনি ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।

প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবস্থান করে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তিনি সেখান থেকে বের হন। বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি তার মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। এ সময় তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সঙ্গে ছিলেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এদিন ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। তারেক রহমানের পক্ষে জমা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম।

গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ অভিজাত এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন গঠিত। দেশে ফেরার পর গত শনিবার তারেক রহমান ওই আসনের ভোটার হন।

এছাড়া তারেক রহমান তার পৈতৃক এলাকা বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ আসনেও গতকাল তার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।

জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে বেলা আড়াইটার দিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের কাছে এ মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার ও বগুড়া শহর বিএনপি সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী ছিলেন।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন বগুড়া প্রতিনিধি]