ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বালিবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার লইছকা বিলে গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১২টা পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন। রাতেই ১৮টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখনো নিখোঁজ অনেকেই। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তত্পরতা চলছিল। উদ্ধার তত্পরতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, পুলিশ ও স্থানীয়রা অংশ নেয়। রাতে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তত্পরতা পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাত্রীবাহী ট্রলারে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া বাল্কহেডের তিন শ্রমিককে আটক করেছে।
নিহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পৈরতলা এলাকার আবু সাঈদের স্ত্রী মোমেনা বেগম (৫৫) ও ফারুক মিয়ার স্ত্রী কাজলা বেগম, দাতিয়ারা এলাকার মোবারক মিয়ার মেয়ে তাসফিয়া মিম (১২), সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের মুরাদ হোসেনের ছেলে তানভীর (৮) ও চিলোকুট গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার শিশু কন্যা তাকুয়া (৮), নরসিংসার গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে সাজিম (৭), ভাটপাড়া গ্রামের ঝারু মিয়ার মেয়ে শারমিন (১৮), বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের জহিরুল হকের ছেলে আরিফ বিল্লাহ (২০), বেড়াগাঁও গ্রামের মৃত মালু মিয়ার স্ত্রী মঞ্জু বেগম (৬০), জজ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৭) এবং তার মেয়ে মুন্নি (১০) ও আব্দুল হাসিমের স্ত্রী কমলা বেগম (৫২), নূরপুর গ্রামের মৃত রাজ্জাক মিয়ার স্ত্রী মিনারা বেগম (৫০), আদমপুর গ্রামের অখিল বিশ্বাসের স্ত্রী অঞ্জনী বিশ্বাস (৩০) ও পরিমল বিশ্বাসের মেয়ে তিথিবা বিশ্বাস (২), ময়মনসিংহের খোকন মিয়ার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৪৫), বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের বাদেহাড়িয়া কামাল মিয়ার শিশু মেয়ে মাহিদা আক্তার (৬), একই উপজেলার মনিপুরের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৮)।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মরদেহগুলো নেয়া হয়। স্বজনরা শনাক্ত করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে জেলার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি সদর উপজেলার আনন্দবাজার ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে লইছকা বিল এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালিবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর সাঁতরে তীরে ওঠা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রী রফিক মিয়া জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার পথে বালিবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় তাদের ট্রলার (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) ডুবে যায়। তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
মুরাদ হোসেন নামের আরেক যাত্রী জানান, তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন। কোনো রকমে সাঁতরে তারা তীরে ওঠেন। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।
আঁখি আখতার নামের এক নারী যাত্রী বলেন, বিজয়নগরের চম্পকনগর থেকে বিকাল সাড়ে ৪টায় যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে ট্রলারটি। ট্রলারে আমি, আমার ছেলে, ভাশুরের ছেলে ও শাশুড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসছিলাম। পথে একটি বালিবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে আমাদের ট্রলারটি ডুবে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান ২১ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া ঘটনা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা দাফনের জন্য দেয়া হবে।










