শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উভয় খাতে নেয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হয়নি বলে সিজিএসের ডায়ালগে মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ডাক্তার ও রোগী উভয়ই বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে শিক্ষাখাতেরও সংকট রয়েছে। উভয় খাতে বিদ্যমান সংকটের সমাধানের জন্য হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ নিতে হবে। এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব গণতান্ত্রিক ধারার মাধ্যমে।
আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর 'গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য' শিরোনামে আয়োজিত সংলাপে তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর ড. মামুন আহমেদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, 'একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে দক্ষ মানুষ তৈরি আমরা করতে পারছি না। আমাদের শিক্ষায় লক্ষ্য নির্ধারণ করাটা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধারা, সেগুলোর উপধারাগুলো তৈরির পেছনে ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। কিন্তু সবগুলোকে একটি ধারায় নিয়ে আসা নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে কীভাবে তাদের নিজস্ব জায়গায় রেখে উন্নত করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।'
মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে—বাল্য বিবাহের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন জড়িত। এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য জড়িত। ফলে এসজিডির অর্ধেকই পূরণ হবে না। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বাল্যবিবাহ বন্ধ করা।'
তিনি আরো বলেন, 'শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হলো হিউম্যান ক্যাপিটাল। কিন্তু এ দুটিই বাংলাদেশের অবহেলিত খাত। মাইগ্রেশনের জন্য ২০৩০ সালে ৮ কোটি নয় লাখ হয়ে যাবে। এদের জন্য সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে নিচ্ছে? স্বাস্থ্যখাতের ১১ টা লক্ষ্য ও ৩ টি অবজেক্টিভের কতটি পূরণ করেছি?'
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, 'দেশে এখন ৩৭টি সরকারি এবং ৭০ এর ওপর বেসরকারি কলেজ রয়েছে। কিন্তু প্রাইভেট মেডিকেলগুলোতে অধ্যাদেশের নিয়মনীতি মানা হয় না। ফলে সেখানে অপ্রতুলতা রয়ে গেছে। শিক্ষকেরও অপ্রতুলতা রয়েছে। সরকারি ডাক্তার ও নার্সের অপ্রতুলতা রয়েছে। ফলে ডাক্তারের ওপর লোড চাপিয়ে দেয়ায় যে ধরনের সেবা দেয়া দরকার সেটি সে দিতে পারছে না। গণতন্ত্র স্থিতিশীল থাকলে স্বাস্থ্যখাতেরও উন্নয়ন ঘটবে।'
ডা. তাসনীম জারা বলেন, 'মেডিকেল শিক্ষার মান খারাপ হওয়ায় ডাক্তার ও রোগী উভয়ই বঞ্চিত হচ্ছে। সুতরাং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ নিতে হবে। এছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে যারা শিক্ষা দিচ্ছে তারাও বঞ্চিত।'










