কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেড় বছরে ১ হাজার ২৯১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বন ও সিআর মামলা। এটি কক্সবাজারের ইতিহাসে মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড। কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শফি এ তথ্য জানান।
তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নং আদালতে ৪ হাজার ৬৮৭টি মামলা নতুন যুক্ত হয়। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯১টি মামলা।
তিনি আরো জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে যোগ দেয়ার পর মামলাজট কমেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।
নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে আদালতে সাক্ষী উপস্থাপন, প্রবেশন মামলা নিষ্পত্তি, প্রসেস নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল, প্রতিবেদন দাখিল, চাঞ্চল্যকর হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও অপহরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল।
কক্সবাজারে কর্মরত আইনজীবী দিদারুল মোস্তফা জানান, কক্সবাজার আদালতে দীর্ঘদিন মামলাজট লেগে ছিল। কিন্তু এবার মামলা নিষ্পত্তিতে রেকর্ড করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫। গত দেড় বছরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধিকসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা বাড়ছে মানুষের। পাশাপাশি কমছে মামলার ব্যয় ও ভোগান্তি।
কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী রমিজ আহমদ বলেন, ‘বিচারের জন্য কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে বছরের পর বছর ঘোরাঘুরির দিন শেষ হয়ে আসছে। বিচারালয়ে অনেক বেশি গতিশীলতা এসেছে। মানুষ যত তাড়াতাড়ি বিচার পাবে, ততই বিচার বিভাগের প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে।’
কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. শাহ আলম বলেন, ‘কক্সবাজারে আমি যোগদানের আগে কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি বন্দি ছিল। এখন ২ হাজার ৫০০ বন্দি রয়েছে। প্রতিদিন জামিনে মুক্ত হচ্ছে আসামি। আদালতের বিচার কার্যক্রম দ্রুত হওয়ায় নিয়মিত বন্দি কমছে।’
বন আদালত গঠন ও দ্রুত নিষ্পত্তিতে রেকর্ড: কক্সবাজারে বন আদালত গঠন ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে রেকর্ড হয়েছে। ২০২২-২৩ সালের জুন পর্যন্ত ৯৩৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বন আদালতে এখন পুরনো মামলা খুঁজে খুঁজে দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এ কারণে মামলার জট অনেকাংশে কমে এসেছে। আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদী-বিবাদী পক্ষ। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২০ মার্চ আলাদা বন আদালত গঠন করা হয়। প্রথম মাসেই ৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি করেন বন আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ।
চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী ব্যতীত সব বন মামলা বন আদালতে পাঠিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফকে দায়িত্ব দেন তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী।
বন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শফি বলেন, ‘আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ বন আদালতের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বনের অপরাধ কমে গেছে। বিচারকের দৃঢ়তায় আসামিরা সহজে জামিন লাভ করতে পারছেন না। আসামিদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বনের অপরাধ অনেক কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বন বিভাগের (দক্ষিণ) প্রসিকিউটর এফসিসিও আলী নেওয়াজ বলেন, ‘বন আদালতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। অনেক দিনের মামলা জট কমে যাচ্ছে।’










