ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। গতকাল শবে কদরের ছুটি থাকায় সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে পূর্বাঞ্চলের ১৭ জেলার ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যায়। লকডাউনের কারণে দূরপাল্লার আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিকল্প যান হিসেবে মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনকে বেছে নিচ্ছেন তারা। এসব যানবাহনে আবার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া গুনে যাত্রীদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল এবং কাঁচপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দেখা যায়, মানুষজন নানা যানের সাহায্যে ঘরে ফেরার চেষ্টা করছেন। এ দুটি মহাসড়ক দিয়ে ১৭ জেলার লোকজন যাতায়াত করে থাকে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে সপরিবারে কুমিল্লা যাচ্ছেন পারভেজ আহমদ। কিন্তু দূরপাল্লার বাস না থাকায় বাসস্ট্যান্ডে এসে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। মাইক্রোবাসে বারবার দামদর করছেন কিন্তু ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় ফিরে আসছেন। তিনি বলেন, বছরের একটা দিন সময় পাই মা-বাবার সঙ্গে কাটানোর। তাই চেষ্টা করছি বাড়ি যাওয়ার। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে বেশকিছু কাজ জমে আছে। অফিস খুলে ফেললে আর বাড়ি যেতে পারব না। তাই যে করেই হোক বাড়ি যেতে হবে।
ঢাকা থেকে সিএনজিতে করে শিমরাইল মোড়ে এসেছেন আনোয়ার, মায়েশা দম্পত্তি। যাবেন ফেনীতে। আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে ফেনী যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আহসান হাবিব। তার দাবি, এক বছর ধরে এলাকায় যেতে পারিনি। যেহেতু একসঙ্গে তিন-চারদিনের ছুটি পাচ্ছি, তাই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছি। ঢাকায় আমি একা থাকি। ঈদের সময় ঘরের কাজের মানুষ ছুটিতে চলে যাবে। এ সময় কোথায় খাব, তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল করে যাচ্ছে। মাইক্রোবাসে কুমিল্লায় যেতে সাইনবোর্ড থেকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে জনপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা, চাঁদপুর ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা; ফেনী, নোয়াখালী, ৬০০-৭০০ টাকা, এছাড়া দাউদকান্দি ৩০০ টাকা, গৌরীপুর, হোমনা ৪০০ টাকা করে।
যাত্রীদের অভিযোগ, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাসের চালকরা যাত্রীদের কাছে থেকে যে যেভাবে পারছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। বাড়ি যেতে হবে। তাই যাত্রীরাও চালকদের বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম জানান, লকডাউনের সময় যাত্রী পরিবহনের অভিযোগে জেলা পুলিশ মহাসড়ক থেকে ২০টি বাস আটক করা হয়েছে। এছাড়া যেসব মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার যাত্রী পরিবহন করছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তার পরও মানুষ বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছে।










