কক্সবাজারের টেকনাফে বাবুর্চির কাজের প্রস্তাব
দিয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবী করছে একটি পাচারকারী সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে,
এ বিষয়ে অভিযোগ করেও তারা আইনি সহায়তা পাননি।
গত ২৪ নভেম্বর সকালে টেকনাফ সদর ইউপির জনৈক
বাবুর্চির আমন্ত্রণে হ্নীলা পশ্চিম পানখালীর আব্দুল্লাহর (৩৭) নেতৃত্বে ভিলেজার পাড়ার
তোফায়েল আহমদ (৩৫), বক্তার আহমদ (২৬), বেলাল উদ্দিন (২৫) ও মো. রিদোয়ান (১৬) নতুন পল্লান
পাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করতে যান।
কথিত বাবুর্চি ওই পাঁচজনকে বাড়িতে কাজ বুঝিয়ে
দেয়ার কথা বলে পথে ওঁৎপেতে থাকা লোকজন দিয়ে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপর পাহাড়ের
ভেতর একটি বাড়িতে বেঁধে রাখে তাদের।
ওইদিন রাতে সিএনজিযোগে সৈকতের পাশে একটি বাড়িতে
নিয়ে দালালরা পাঁচ অপহৃতকে বিক্রি করে দেয়। সেখানেও আব্দুল্লাহ, বক্তার, বেলাল ও রিদোয়ানকে
মারধর করা হয়। তবে তারা সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে রাজি হওয়ায় পৃথক স্থানে সরিয়ে নেয়া
হয়।
তোফায়েল রাজি না হওয়ায় তার কাছে মুক্তিপণ
চাওয়া হয়। এরপর ২৫ নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা
নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে বন্দি থাকা অপর চারজনের মুক্তির জন্য
প্রথম দফায় ৭০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দফায় ১ লাখ টাকা এবং র্যাব-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ
করায় এখন দেড় লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবী করা হচ্ছে। অন্যথায় জিম্মিদের প্রাণনাশের
হুমকি দেয়া হচ্ছে।
নিরুদ্দেশ চারজনের স্বজনরা বলছেন, তারা থানায়
গেলেও কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাননি।
বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ
মো. আব্দুল আলিমের কাছে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পল্লান পাড়ার
৪নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল ফারুক বলেন, এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় যারা জড়িত তদন্ত
স্বাপেক্ষ তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।
অন্যদিকে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ
আলী জানান, এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে
অবহিত করা হয়েছে।










