রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ‘ইলেকশনস ডায়ালগ: ইওর পার্টি ভোটার কোয়েশ্চেনস’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে দ্য ডেইলি স্টার। এ সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ডেইলি স্টারের উপদেষ্টা সম্পাদক কামাল আহমেদ

রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বে। যে দুর্নীতি বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে, সেটি ভাঙতে চাই। আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।

আমরা দেশকে মানবিকতার ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা—এ মিশন নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়তে চাই যেখানে দুর্নীতি চিরবিদায় হবে, দুর্বৃত্তায়ন বিদায় হবে, সন্ত্রাস বিদায় হবে। আইন-শৃঙ্খলাকে আমরা ঢেলে সাজাতে চাই। মায়ের কোলে যেমন শিশু নিরাপদ, আগামী প্রজন্ম যেন সে রকম নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারে।

সেই সঙ্গে শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা সর্বস্তরে অবৈতনিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর শিক্ষা দিয়ে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চাই। গবেষণা ও শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আমাদের চিন্তা আছে। বর্তমানে জিডিপির ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে শিক্ষায়। সেটা আমরা পর্যায়ক্রমে ৬ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে অবশ্যই শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমাদের পদে পদে বাধা তৈরি করেছে দুর্নীতি। সেই জায়গায় আমরা যদি জিরো পয়েন্টে আসতে পারি তাহলে তা সম্ভব। এটার জন্য আমাদেরকে সব ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়াতে হবে।

অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। রফতানি খাতে বস্ত্রশিল্প আমাদের বেশির ভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে। রফতানি খাতকে যদি আমরা বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখীকরণ করতে পারি এবং কর দুর্নীতি দূর করতে পারি তাহলেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাণিজ্যবান্ধব অর্থনীতি ও ভারসাম্য তৈরি করতে আমরা প্রতি তিন বছর অন্তর করের ক্ষেত্রে রিলিফের ব্যবস্থা নিয়ে আসছি। তিন বছর পর তাদেরকে স্বীকৃতি, সম্মান, সুযোগ তৈরি করে দিয়ে ইনসেনটিভ দেব।

নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর অধিকারগুলো সমুন্নত করার ক্ষেত্রেও জামায়াতের ব্যাপক পরিকল্পনা আছে। মাতৃত্বকালীন রেশন, কৃষকদের জন্য নতুন কার্ড সিস্টেম, রেশন সিস্টেম চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। মাছ আহরণ বন্ধের সময় মৎস্যজীবীদের যে ৩০ কেজি চাল দেয়া হয় মাসে, আমরা সেটা তিন গুণ বাড়াব।

হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী