সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন মেয়র ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপরও হামলা করেন পরিবহন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশকে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক পরিবহন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিলেটে চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। এ সড়কের চৌহাট্টা- দরগাহ এলাকার ফুটপাথ ও সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে অনেক দিন ধরেই অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার শ্রমিকরা। প্রতিদিন এখানে শতাধিক গাড়ি পার্কিং করা হয়। চারদিন আগে এ অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে যায় সিলেট সিটি করপোরেশন। মেয়রের নেতৃত্বে এ অভিযানে বাধা দেন পরিবহন শ্রমিকরা। পরে তাদের তিনদনের সময় বেঁধে দিয়ে এ সময়ের মধ্যে ফুটপাথ ও সড়ক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন মেয়র।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা জানায়, গতকাল সকালে চৌহাট্টা এলাকায় সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ খবর পেয়ে দুপুরে কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি দেখতে পান পরিবহন শ্রমিকরা তখনো সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন। এ সময় মেয়রসহ সিসিকের কর্মকর্তারা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে চাইলে তারা বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান পরিবহন শ্রমিকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবহন শ্রমিকদের হামলার পর পর সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে পুলিশের ওপরও হামলা চালান শ্রমিকরা। এ সময় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এতে চৌহাট্টা-আম্বরখানা, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা-মিরবক্সটুলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। সম্প্রতি সিসিকের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় চৌহাট্টার এলাকার অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বলা হলেও শ্রমিকরা যানবাহন না সরিয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে। একপর্যায়ে সিসিকের কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা অবৈধ স্ট্যান্ড করে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। যতবার এ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে এসেছি তারা বাধা দিয়েছে। সর্বশেষ তারা তিনদিনের সময় নিয়েছে। তবু তারা স্ট্যান্ড না সরিয়ে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমার দিকেও বন্দুক নিয়ে এসেছিল। যতই বাধা আসুক উন্নয়ন কাজ বন্ধ হবে না। এসব নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকেও স্বোচ্ছার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।