নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন আজ। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।

গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর পুলিশ লাইনস মাঠে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। পুলিশ সুপার বলেন, কাউকে ভোটকেন্দ্র দখল করতে দেয়া হবে না। কেউ যেন কোনো ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এ নির্বাচন সারা দেশের জন্য মডেল নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে বলেও ঘোষণা দেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ভালো, পরিবেশও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে বিজিবি মোতায়েন থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল ফোর্স, টহল বাহিনী—সবই থাকবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা সমাধানে ৪৮ সদস্য নিয়ে গঠিত মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। যখন যেখানে প্রয়োজন হবে, তারা তা সমাধান করবেন।

গতকালই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএমসহ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। নগরীর তিনটি পয়েন্ট থেকে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা নির্ধারিত পয়েন্ট সরঞ্জাম বুঝে নেন। এরপর পুলিশ পাহারায় সেসব নিয়ে যাওয়া হয় নির্ধারিত কেন্দ্রে। মালামালসহ নির্বাচনী কর্মকর্তারা রাতে কেন্দ্রেই অবস্থান করেছেন। এ কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়ে নগরীর মরগ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার এসব কথা বলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, কোনো কেন্দ্রেই ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা কাজ করবে না। কারণ সিসি ক্যামেরা থাকলে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা হবে না। যদিও সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নেই, তবু যেখানে যেখানে আছে সেগুলো বন্ধ রাখা হবে। একজন প্রার্থীকে সুবিধা দেয়ার জন্য সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলা হচ্ছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ফলে সেটি নিশ্চিত করতেই সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হচ্ছে।

মাহফুজা আক্তার বলেন, ভোটাররা তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে আসবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা ভোটকেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন। ভোট শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাবেন। প্রার্থীরা দাবি করলেও নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি। সহিংসতা নিয়ে কোনো প্রার্থী অভিযোগ করেনি বলেও জানান তিনি।

এছাড়া গতকাল বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ভোটের গোপন কক্ষ স্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান, ভোটারদের যাওয়া-আসার স্থান নির্ধারণসহ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কোথাও কোনো ফাঁক-ফোকর থাকলে তা সমাধান করেন।

গ্রেফতার-হয়রানির অভিযোগ তৈমুরের

নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এসেও তার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাসিক নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। গতকাল দুপুরে নিজের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছি না। আমি পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছি। তবে যা-ই হোক না কেন নির্বাচনের মাঠে থাকবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শুরু থেকেই তৈমুর আলম খন্দকার অভিযোগ করে আসছিলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করতে কাজ করছে পুলিশসহ পুরো প্রশাসন। তবে আইভী বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছেন। সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি বাড়তি কোনো সুবিধা নেননি বলেও সবসময় দাবি করেছেন। উল্টো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সাবেক বিএনপি নেতা তৈমুর আলমের পক্ষে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুক্রবার সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে আইভী বলেন, তাকে পরাজিত করতে দলের ভেতর ও বাইরের সব পক্ষ এক হয়ে গেছে। তবে সবকিছুর পরও ভোটাররা ঠিকমতো ভোট দিতে পারলে নিজের বিজয়ের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।