নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে ধরনটি প্রথমে শনাক্ত হওয়া দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতজনের বাড়িতে লাল পতাকা টানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অতিসংক্রামক ধরনটির প্রতিরোধে সতর্কতার অংশ হিসেবে গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জানা গেছে, ১৬-২৪ নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন সাতজন বাংলাদেশী নাগরিক। এদের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একজন, কসবা উপজেলার তিনজন, নবীনগরের একজন এবং সদর উপজেলার দুজন রয়েছেন। তাদের চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার পাশাপাশি সবার বাড়িতে লাল পতাকা টানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল বিকালে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে। সভায় বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. একরাম উল্লাহ ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান প্রমুখ। সভায় আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, বতসোয়ানাসহ আফ্রিকা থেকে যারা বাংলাদেশে আসবেন, তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আজ আমাদের কমিটির সভা হয়েছে। সভায় দক্ষিণ আফ্রিকাফেরত সাতজনের বাড়িতে লাল পতাকা টানানোর পাশাপাশি তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা। এর পেছনে করোনার নতুন ধরনকে দায়ী করছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ ছড়ানো ডেল্টা ধরনের চেয়েও এটি মারাত্মক হতে পারে। প্রাথমিকভাবে বি.১.১.৫২৯ নামে পরিচিত ধরনটি বারবার মিউটেট (আচরণ পরিবর্তন) হচ্ছে। এরই মধ্যে অন্তত ৩২ বার রূপ বদলেছে এটি। এতে করে ভাইরাসটি নতুন করে আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে ইউরোপের দেশগুলোয় দ্রুত ধরনটি ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ইতালি, জার্মানি, বতসোয়ানা, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ইসরায়েলসহ অনেক দেশে ভাইরাসের এ ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ দেখা দেয়ায় অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।










