জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ শুরু করেছে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ ব্যানারে বিভিন্ন বামপন্থী দল ও সংগঠন। দুইদিনের এ রোডমার্চ কর্মসূচি গতকাল সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশীদের হাতে না দেয়া, স্টারলিংক ও করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধচক্রে জড়ানোর উদ্যোগ বন্ধ করা, আধিপত্যবাদী দেশগুলোর সঙ্গে বিগত সব সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত চুক্তি প্রকাশ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে রোডমার্চ থেকে।

আয়োজনের মূল স্লোগান—‘মা, মাটি, মোহনা, বিদেশীদের দেব না’। সমাবেশের শুরুতেই গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সদস্যরা পরিবেশন করেন বিভিন্ন সংগীত। আয়োজকরা জানান, রোডমার্চের প্রথম দিন গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিকালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ ফেনীর শহীদ মিনারে গণমিছিল এবং বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম বন্দরে সমাবেশ আয়োজনেরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের হাতে গতকাল দেখা যায় নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল—‘ইন্টেরিম সরকার, সাম্রাজ্যবাদের পাহারাদার’, ‘বন্দর-করিডোর বিদেশীদের দেব না’, ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল অসম চুক্তি বাতিল কর’, ‘মার্কিন ভারতসহ সকল সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া চলবে না’, ‘মার্কিন কোম্পানি স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল কর’ ইত্যাদি।

রোডমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা হলো গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা। এ আকাঙ্ক্ষা হলো আধিপত্যবাদ আর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আকাঙ্ক্ষা। এর আগে বিভিন্ন আন্দোলনে প্রাণ বিসর্জন দেয়া সব শহীদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এ আন্দোলন দীর্ঘদিনের।’

তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা আহ্বান করছি, অবিলম্বে বন্দর ইজারাসহ রাষ্ট্রবিরোধী করিডোর দেয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে। আগামীকালের পর আর কোনো নতুন কর্মসূচি আসবে না। কিন্তু সরকার যদি এ দায়িত্ব পালন না করে, আগামীকাল সমাবেশে ঘোষণাপাঠের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

এ কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বিষয়টি জানিয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘তারা শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বাম ছাত্র সংগঠন, নারী সংগঠনও এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন।’

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, গণমুক্তি আন্দোলনের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব এমএম আকাশ, গণমঞ্চের মাসুদ খান, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতা কামাল হোসেন, বাসদ মার্ক্সবাদের প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লিগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ।