গতকাল সারা দেশের মতো সিলেটেও শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম। সকালে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে সিলেটে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
টিকা নেয়ার পর এ নিয়ে গ্রহীতারা সন্তুষ্টির কথা জানালেও টিকাকেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নৌশিন তাসনিম। তিনি বলেন, টিকা গ্রহণের বুথগুলোয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। এটা করা উচিত। তা না হলে এখানে এসেও কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।
টিকাকেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টিকা নেয়া স্বাস্থ্যকর্মী সাইদুল ইসলামও।
সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, টিকা নিতে আসা সবাই গাদাগাদি করে বসে আছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, মিডিয়াকর্মীদের উপস্থিতিতে টিকাদান কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড় লেগে আছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব।
গতকাল সিলেটে প্রথম টিকা নেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। টিকা গ্রহণের পর তিনি বলেন, মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি পুরো সুস্থ আছি। আগের চেয়ে বরং ভালো আছি। কারণ টিকা দিয়ে করোনার ভয় অনেকটা কেটে গেছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথম টিকা নিতে পেরেও আমার ভালো লাগছে। টিকা গ্রহণের পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ফলে সবাইকে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানাই।
সকাল সাড়ে ৯টায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পরে সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করেন।
বেলা ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত টিকাদান কেন্দ্রের ১০, ১১ ও ৪ নং বুথে তিনজনের টিকাদানের মাধ্যমে সিলেটে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
সিলেটে প্রথম দিনে টিকা গ্রহণ করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক কৃতী ফুটবলার রনজিত দাশ। প্রায় ৯০ বছর বয়সী এ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। তবে টিকা গ্রহণের পর হাসি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তার ভালো লাগার কথা। টিকা নিয়েছেন রনজিত দাশের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও।
প্রথম দিনে টিকা গ্রহণ করেছেন সিলেটের একাধিক জনপ্রতিনিধিও। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াস, তৌফিক বক্স লিপনসহ কয়েকজন কাউন্সিলর টিকা নেন।










