জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ উদযাপনে সমাবেশ ও মশাল মিছিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে নারী সংহতির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নারীদের আন্দোলন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে চলমান নারী নির্যাতন ও বিদ্বেষমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীল। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা।

অপরাজিতা চন্দ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা রাজপথে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে পুরো আন্দোলনের চেহারা পাল্টে দিয়েছিল। তাদের সাহস সঞ্চারিত হয় পুরুষ শিক্ষার্থীসহ পুরো দেশের মানুষের মাঝে।’

শ্যামলী শীল বলেন, ‘ধর্ষণ, নিপীড়ন ও নারীবিদ্বেষ এখন মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নারী অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই।’

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার লিমা বলেন, ‘অভ্যুত্থানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে নারীবিদ্বেষী সব শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে।'

জুলাই নারী যোদ্ধা ও এম্পায়ারিং আওয়ার ফাইটার্স সংগঠনের কলি কায়েস নিহত ও আহত নারী আন্দোলনকারীদের বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। রেবেকা নীলা ১৩৫ শিশু ও ১১ নারী শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের হত্যার বিচার দাবি করেন।

সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকারকর্মী ফারজানা হয়াহিদ সায়ান বলেন, ‘গত বছর রুমা ও থানচিতে গ্রেফতার হওয়া বম নারীদের এখনো মুক্তি দেয়া হয়নি। অথচ নারী আন্দোলন এত বড় জায়গায় পৌঁছেছিল।’

সাংবাদিক সাইদিয়া গুলরুখ বলেন, ‘সরকারি প্রতিরোধে অনেক সময় নারীর মূল লড়াইটা ধুলিসাৎ হয়ে যায়, সেই প্রতিরোধের জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক কানিজ ফাতেমা, ছাত্র ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিন্নাত আরা, মানবাধিকারকর্মী আনাদিল, গ্রন্থ প্রবর্তনার সীমা দাস সামু, নারীনেত্রী নাদিরা ইয়াসমিন, শিক্ষক নাভীন মুরশিদ, নাট্যকর্মী ঋতু সাত্তার, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের অমল ত্রিপুরা, হিল উইমেন ফেডারেশনের রুপসী চাকমা ও মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মামাচিং মারমা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

এছাড়া সংহতি জানাতে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির মিজানুর রহিম চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

সমাবেশে মশাল মিছিলটি শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।