যশোর প্রধান ডাকঘরে দায়িত্ব পালনের সময় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পোস্টমাস্টার আব্দুল বাকীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল দুদকের সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন মামলাটি করেন।
সূত্র মতে, ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি যশোর প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার হিসেবে যোগ দেন আব্দুল বাকী। ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার টাকা তুলে নেন তিনি। এসব গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা ছিল না। তাদের হিসাবে টাকা জমা না করেও তিনি অফিসের নথিতে টাকা জমা দেখান। এরপর ডেপুটি পোস্টমাস্টার, দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটর ও ১৭ আমানতকারীর নকল স্বাক্ষর করে তিনি টাকা তুলে নেন। এক বছর ধরে কৌশলে গ্রাহকের হিসাব ব্যবহার করে সরকারের টাকা সরিয়ে নেন পোস্টমাস্টার আব্দুল বাকী। সর্বশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি শেখ মোহাম্মদ আলী নামে এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের সময় ধরা পড়েন তিনি। এরপর ডেপুটি পোস্টমাস্টার মেহেরুন্নেছা অধিক যাচাইয়ের জন্য গত ৩০ জানুয়ারি এসবি-২৪৩৭২৮ নম্বরের হিসাবের লেজারের তথ্য শিডিউলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। তখন পূর্বের জালিয়াতির বিষয়ে তিনি আরো নিশ্চিত হন। তিনি দেখতে পান, আগে যে টাকা তোলা হয়েছে সেখানে এন্ট্রি করা নেই এবং লেজারের তথ্যগুলোও একই হাতের লেখা। এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি খুলনা থেকে অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল আমিনুর রহমান সরজমিন এসে ঘটনার সত্যতা পান। পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত আব্দুল বাকীকে খুলনায় স্ট্যান্ড রিলিজ ও ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) খন্দকার মাহাবুব হোসেনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি সত্যতা পেলে ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করে। ওই রাতেই তাকে আটক করে পুলিশ।
দুদকের সমন্বিত যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক আল আমিন বলেন, ‘প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গতকাল তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’










