গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জ্বর অনুভূত হয় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার রেফাজ উদ্দিনের। জামালপুর জেলার সীমান্ত ঘেঁষা এই উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। এসময় বাবার সেবা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার ছেলে মনির হোসেনও। পরে ২২ এপ্রিল জ্বর-সর্দি নিয়ে যান তাদের বাড়ি থেকে কাছাকাছি জামালপুরের সরিষাবাড়ি হাসপাতালে। সন্দেহ হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তাদের করোনা পজিটিভ আসে। 

পরে তাদের পাঠানো হয় রাজধানী ঢাকার মুগদা হাসপাতালে। সেখানে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে করোনা মুক্ত হয়ে সিরাজগঞ্জে ফিরেছেন এই পিতাপুত্র। তবে তাদের এখনই বাড়িতে না পাঠিয়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। 

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তারা ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ফেরেন।এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের শুভেচ্ছা জানান।

করোনামুক্ত হওয়া মনির হোসেন বণিক বার্তাকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় প্রতিবেশিরা বিরূপ আচরণ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন রোগ ধরা পড়লো তখন থেকে মনে হয় আমরা অন্য কোন গ্রহের প্রাণী। কেউ আমাদের ধারের কাছেও আসেনি। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তখন প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার নার্সদের পরিচর্যায় আর কিছু নিয়ম মেনে চলায় ইনশাল্লাহ সুস্থ হয়েছি।

তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহ প্রচুর লেবুর রস, গরম পানি, আদা চা খেয়েছি, বাবাকেও খাইয়েছি। সব সময় গরম খাবার আর উষ্ণ পরিবেশে থেকেছি। তরল খাবার খেয়েছি তাও গরম করে। সব মিলে আল্লাহ সুস্থ্য করে তুলেছেন।’ 

এসময় মনিরের বাবা রেফাজ উদ্দিন জানান, ‘আমার অবস্থা বেশি খারাপ ছিল। হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকেছি। ছেলে আদা, লেবু, গরম পানি খাইয়েছে। ডাক্তারদের নির্দেশিত ওষুধ আর পরামর্শ মেনে চলে আমরা সুস্থ হয়েছি। 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘সরিষাবাড়িতে মানুষের মধ্যে যাওয়ার কারণেই আমার শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করেছে বলে মনে করছি। আর আমার সেবা করায় ছেলেও রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই এই রোগ ঠেকাতে চাইলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা আর ঘরে থাকাটা খুব জরুরি। 

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুল  জানান, কাজিপুরের সাবেক এমপি তানভির শাকিল জয় স্যার আর ইউএনও জাহিদ হাসান সিদ্দিকী স্যারের সহায়তার আমরা তাদের চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। চিকিৎসা শেষে আবার নিয়ে এসেছি। এখন সাতদিনের আইসোলেশন শেষে তাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়া হবে। বর্তমানে পিতা পুত্রের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।