উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এরই মধ্যে অনশনের ১০০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় দাবি মানার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস না মেলায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি সাদিয়া আফরিন জানান, গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সহপাঠীরা পাঁচদিন ধরে অনশন করে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর ভিসি বাসভবনে আরাম-আয়েশ করবেন, আমরা তা হতে দেব না। যে কেউ চাইলেই আর ভিসির বাসভবনে ঢুকতে পারবেন না।
এর আগে গতকাল বিকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে জড়ো হন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বাসভবন ঘেরাও করে ঘোষণা দেন, জরুরি পরিষেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া বাসভবনে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এ সময় বাসভবনের জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
এদিকে অনশনের ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছ থেকে দাবি মানার ব্যাপারে সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি। এজন্য তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।
এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শনিবার গভীর রাতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনায় তাদের দাবি মানার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে আবার আলোচনা হতে পারে। এমন আশ্বাসে পুনরায় আলোচনার জন্য তার প্রতিনিধি শফিউল আলম নাদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ইয়াসির সরকার বলেন, যেহেতু আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি কিংবা শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি মানার ব্যাপারে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি, তাই কর্মসূচি চলবে।
গণঅনশন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ইয়াসির বলেন, শনিবার রাতে আরো চারজন নতুন করে অনশনে বসেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় ছিলাম। যেহেতু আলোচনা গতি পাচ্ছে না, তাই আমরা অনশন কার্যক্রম চালিয়ে যাব। মোট ২৭ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন করছেন। এর মধ্যে ২৩ জনের অনশনের ১০০ ঘণ্টা পেরিয়েছে।
তিনি জানান, ১৫ জন শিক্ষার্থী নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত কেউই অনশন ভঙ্গ করেননি। অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে এসে অনেক সহপাঠী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনের ১২৯ নম্বর কক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ হয় রাত আড়াইটায়। তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবির বিষয়ে আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
এদিকে গতকাল বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে সংহতি প্রকাশ করেছে। সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সাংবাদিক নেতারাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। এছাড়া গতকাল দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেও একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বাইরের যেকোনো কর্মসূচি কিংবা কোনো অঘটনের দায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নেবেন না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদিয়া আফরিন এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাবিপ্রবির ২৩ শিক্ষার্থী। এর আগে ১৩ জানুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। সেই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আহত হন অনেক শিক্ষার্থী। পরে পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এসব ঘটনার জের ধরে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনসহ আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।










