কোনো রাজনৈতিক দলের অভিসন্ধির কাছে বিএনপি কোনোদিন মাথা নত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্র কোনো ছেলেখেলা নয়। জনগণের ভাগ্য নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না। এ রাষ্ট্রকে একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলতে দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের অভিসন্ধির কাছে আমরা কোনোদিন মাথা নত করতে পারি না। এ দেশের জনগণই হচ্ছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার মালিক।’
রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে থাকা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। সংবিধান বদলের অধিকার কারো নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কোনো একটি আইনানুযায়ী বৈধ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানকে পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমাদের কারো নেই। এমনটা হলে আগামী দুই বছর বা পাঁচ বছর পর বারবার এ প্রক্রিয়ায় আবার সংবিধান বদলের দাবি উঠবে।’
গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের অভিপ্রায় প্রকাশ হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা যখনই একটা বৈধ প্রক্রিয়ার কথা বলি, তখন তারা বলে জনগণের অভিপ্রায় এখানে চূড়ান্ত। হ্যাঁ, জনগণের অভিপ্রায় চূড়ান্ত। জনগণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সে অভিপ্রায়ের মধ্য দিয়ে এ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা সঠিক; কিন্তু এ অভিপ্রায়কে বাস্তবায়নের জন্য তো আমাদের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে, আর্টিকেল ১০৬-এর দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আমরা সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন দেখেছি। উপদেষ্টাদের শপথ দেখেছি। আমরা সেটিকে বৈধ প্রক্রিয়া মনে করি।’
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) নিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ যে পিআর পদ্ধতি বোঝেই না সে পদ্ধতি কি আমরা চাইতে পারি? সুতরাং এসব কথাবার্তা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা না করাই উচিত।’ যারা হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জাতীয়, দেশ ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে, তাদের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সঠিক রাস্তায় ফেরত আসার আহ্বান জানান তিনি।
এনডিপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হারুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, গণদলের সভাপতি এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।










