২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান দেশ ছেড়েছিলেন। তখন শাসন ছিল একটি অনির্বাচিত সরকারের। ওয়ান-ইলেভেন নামে পরিচিত সেই সরকারের অধীন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন মাসের কিছু বেশি সময় আগে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। এরপর সতেরো বছরে আর ফেরেননি। নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা পরবর্তী সময়ে বিপরীত দিকে ধাবিত হয়।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনে দেশে একদলীয় ও একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট তরুণদের নেতৃত্বে ৩৬ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পতন হয় শেখ হাসিনার। প্রাণ হারান অনেক মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণ করেন হাজার হাজার। নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফেরা ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা।
নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। এ নির্বাচনে অংশ নিতে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশে ফিরছেন।
তারেক রহমান যখন ফিরছেন তখন পাহাড়সম সংকটের মুখে দেশ। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, লাখ লাখ তরুণের কর্মহীন জীবন, ভঙ্গুর সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদান। স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা, গণপরিবহন—সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি। অন্তর্বর্তী সরকার ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ নিলেও কোনোটাই নতুন পথের যাত্রা শুরু করতে পারেনি। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থীদের গভীর বিভাজন। সংগঠিত সন্ত্রাস বা মব ভায়োলেন্সে জননিরাপত্তা ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছে। সর্বশেষ আততায়ীর গুলিতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ দুটি পত্রিকার কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ ও স্বাধীন গণমাধ্যম ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়েছে। এমনই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আজ তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
দেশে আসার আগেই তারেক রহমান বাংলাদেশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন বুনেছেন এবং মানুষের সামনে তা হাজিরও করেছেন। ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সব নাগরিককে হেলথ কার্ড দেয়া, শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিসহ আরো অনেক কিছু। ৩০০ ফিটে আজকের গণসংবর্ধনায় তিনি তার নতুন রাষ্ট্রচিন্তাই তুলে ধরবেন।
আজ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। গত রাতে বাংলাদেশ সময় সোয়া ১২টায় ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। একই ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসব ভাব ছিল গত কয়েকদিন ধরেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার দেশে ফেরা নিয়ে প্রবল আগ্রহ লক্ষ করা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তারেক রহমানের উপস্থিতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবখানেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা একে বলছেন, ‘রাজনৈতিক মাহেন্দ্রক্ষণ’।
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান ৩০০ ফিট এলাকায় দলীয় সংবর্ধনা সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মা, চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। মাকে দেখে তারেক রহমান সরাসরি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় চলে যাবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (আজ) দুপুরে বিমানবন্দরে নামার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট রাস্তায় সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলীর মোড় হয়ে গুলশান ২ নম্বরে বাসভবনে চলে যাবেন।’
এদিকে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সরজমিনে দেখা যায়, সংবর্ধনা মঞ্চের নির্মাণকাজ শেষ। ব্যানার, পতাকা, তোরণ আর আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে সমাবেশস্থল। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা মঞ্চ এলাকা পরিদর্শনে আসছেন। অনেকে গত রাত থেকে সংবর্ধনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন। মঞ্চের সামনে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও টহল দিতে দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর একাধিক টিম গাড়িতে করে দফায় দফায় পুরো সমাবেশ এলাকা পরিদর্শন করছিলেন।
৩০০ ফিট এলাকায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির চৌদ্দশত ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মাহেন্দ্রক্ষণ। এত বছর তাকে (তারেক রহমান) দূরে রাখা হয়েছে, তবুও দেশের মানুষ তার ফেরার অপেক্ষা ছাড়েনি। ২৫ ডিসেম্বরকে আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি বলছি না, এটা দেশের মানুষের আনন্দের দিন।’
বগুড়া থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নেতাকে স্বাগত জানাতে মানুষ যেভাবে আসছে, তাতে মনে হচ্ছে এটা জাতীয় উৎসব। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি, যেন পুরো আয়োজন সুন্দরভাবে শেষ হয়। আমাদের কাছে এটা সম্মানের দিন।’
চট্টগ্রাম থেকে ৩০০ ফিটে এসেছেন যুবদলের কর্মী ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) ঢাকা শহরে এত বড় জমায়েত হবে, যা মানুষ আগে কখনো দেখেনি। আমরা শুধু নেতাকে বরণ করতে আসিনি, আমরা প্রমাণ করতে এসেছি—এ নেতৃত্বের পেছনে জনগণ আছে। এত বছর পরও তার নামেই মানুষ পথে নেমে আসে—এটা কোনো সাধারণ ব্যাপার না। এটাই রাজনীতির আসল শক্তি।’
জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সংবর্ধনা মঞ্চে উঠবেন তারেক রহমান। এ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে ৩০০ ফিট এলাকাসংলগ্ন মহাসড়কে রোববার দুপুর থেকেই মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মঞ্চ বানানো হয়েছে ৪৮-৩৬ ফিট আকারে। বিএনপির সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা দিন-রাত তদারকি করে আয়োজনকে পূর্ণতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
গতকাল দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি তারেক রহমানের তিনদিনের কর্মসূচি তুলে ধরেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা জানান, প্রত্যাবর্তনের পরের দিন, অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার তারেক রহমান জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। তবে তিনি সশরীরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে যাবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তিনি সেদিনই ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। পরে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে শ্যামলীতে জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন ইনস্টিটিউটে (পঙ্গু হাসপাতাল) যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দলীয়ভাবেও নানা প্রস্তুতি রয়েছে। সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজনটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজ ঢাকাজুড়ে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্যারামেডিক, ওষুধপত্র ও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এছাড়া বক্তব্যস্থলের কাছাকাছি ছয় শয্যার একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার সঙ্গে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত থাকবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, সর্বত্র মোবাইল টয়লেট স্থাপন ও কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলে খালেদা জিয়াকে যেদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর কার্যত গত সাত বছর ধরে লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। কিন্তু দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের মধ্যে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেন। পরে উচ্চ আদালতও তাকে খালাস দেন। আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন রায়ে তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছিল। সেসব মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।
গত বছর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। এরপর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত মাসের শেষদিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন-তারিখ নিয়ে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়। বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলে জানা যায়, বগুড়া-৬ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করবেন তারেক রহমান।
গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসবেন। এরপর তার জন্য ঢাকায় বাসভবন ও অফিস গোছানোর খবর আসে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিমানবন্দরে তাদের নেতাকে এমন সংবর্ধনা দেয়া হবে, যা আগে কোনো রাজনীতিবিদ পাননি।’
বিজয় দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে লন্ডন বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। সেই অনুষ্ঠান কার্যত যুক্তরাজ্যে তার বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। প্রবাসী বিএনপি কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘২৫ তারিখে ইনশা আল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমি দেশে ফিরে যাব। সবার কাছে দোয়া চেয়ে যাচ্ছি। আপনারা দয়া করে দোয়া করবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীতে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড লাগিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে দেশে ফিরে তারেক রহমান যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন সেই এলাকায় ‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’সহ নানা স্লোগান সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও চেয়ারপারসনের কার্যালয় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সুদৃঢ়, নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন বিভিন্ন দলের নেতারা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে আমরা স্বাগত জানাই।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছে দেশের মানুষ। আমরা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তার নেতৃত্বে বিএনপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র সুসংগঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করি।’
দেশের চলমান বিভিন্ন সংকটে সাধারণ মানুষ তারেক রহমানকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রায় দেড় যুগ পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়; এটি একজন পরিণত ও দায়িত্বশীল জাতীয় নেতৃত্বের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত। দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। অনেকের বিশ্বাস, তার উপস্থিতিতে নির্বাচনের পথে থাকা বাধাগুলো দূর হবে এবং প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরো সক্রিয় হবে। বর্তমান বাস্তবতায় দেশে যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও মানুষ তার আগমনকে আশার চোখে দেখছে।’
আলতাফ পারভেজ আরো বলেন, ‘আমাদের সমাজে ঐতিহাসিকভাবেই মানুষ সংকটকালে একজন দৃঢ় নেতৃত্বের দিকে তাকায়। যদিও সমস্যার সমাধান মূলত সম্মিলিত উদ্যোগেই সম্ভব, তবুও সাধারণ মানুষ চায়, কেউ একজন সামনে এসে তাদের পাশে দাঁড়াক। দেশে যে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, অনেকে মনে করেন তিনি সেই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারবেন।’










