যশোরের বেনাপোল সীমান্তবর্তী হাকর নদীর খননকাজ দীর্ঘ ৬৮ বছর পর শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত সোমবার থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পাউবোর যশোরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান। প্রাথমিকভাবে বেনাপোলের সাদিপুর চেকপোস্ট থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত খনন করা হবে। ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ কোদলা নদীর বাকি অংশ পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে খননের মাধ্যমে বিভিন্ন বিলের সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৯৪ টাকা।

যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর গ্রামের ১৮ নম্বর সীমানা পিলার এলাকা দিয়ে হাকর নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উপজেলার বড়আঁচড়া, ছোটআঁচড়া, ভবারবেড়, বেনাপোল ও নারায়ণপুর মৌজার মধ্য দিয়ে রঘুনাথপুরের কোদলা নদী হয়ে বেতনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে এ নদী।

স্থানীয়দের আশা, নদীটি খনন হলে তারা বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাবেন। একই সঙ্গে নদী দখল করে গড়ে তোলা ভবন, মাছের ঘের, পুকুরসহ নানা স্থাপনাও এ সময় উচ্ছেদ করে স্বাভাবিক গতি-প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে বলে তারা আশাবাদী। নদীটি দখল করে অনেক প্রভাবশালীই সেখানে স্থাপনা তৈরি করেছেন। ফলে খননকাজের সময় তারা বাধা দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেনাপোল পৌরসভার প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, ‘বেনাপোল পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে হাকর নদী খননকাজ শুরু হয়েছে। নদীর ধারে গাছ লাগানোসহ ওভারব্রিজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ ফিরে পাবে বেনাপোলবাসী।’