নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কদমরসুল কলেজ মাঠপাড়া এলাকায় ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত বাবা বিল্লাল হোসেন ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। বাবা খুনের ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ছেলেকে গতকাল দুপুরে কদমরসুল কলেজ মাঠপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। বাবা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ছেলে বাপ্পি (২০) গতকাল দুপুরে কদমরসুল কলেজ মাঠপাড়া এলাকায় ফিরে আসে। এ সময় এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনরা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, বন্দরের কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার বিল্লাল ড্রাইভারের স্ত্রী হেলেনা এক বছর আগে এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান। বিল্লাল ছেলেমেয়ের দেখাশোনার জন্য তিন মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় ছেলে বাপ্পি ক্ষিপ্ত ছিল। বাপ্পি বিয়ে করার জন্য পরিবারের প্রতি চাপ দেয়। বিল্লাল ছেলে বাপ্পিকে বোঝান যে তার বিয়ের বয়স হলেই বিয়ে করাবেন। এতে বাপ্পি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে বিল্লাল ফজরের নামাজে মসজিদে গেলে বাপ্পি বাবার ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। বিল্লাল নামাজ আদায় করে নিজ ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়লে বাপ্পি বিল্লাল হোসেনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তার চিত্কার শুনে সৎ মা আমেনা বেগম জেগে উঠলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় বাপ্পি। বাড়ির লোকজন স্বামী-স্ত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়।