শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৪টা থেকে পদত্যাগের দাবি নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় ভিসিকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশের বুলেটের বিপরীতে পুলিশের জন্য ফুল নিয়ে আসেন এবং পুলিশ সদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ শিক্ষার্থীদের বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমরা এখানে আছি। আপনারাও শান্তিপূর্ণভাবে আছেন, আমরাও শান্তিপূর্ণভাবে আছি। আপনারা শান্তি বজায় রাখলে আমরা চলে যাব।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, যে ভিসি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন সেই ভিসি আমরা চাই না। এ ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন ভিসি দেয়ার জন্য।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার জন্য গতকাল ভিসির বাসভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে পুলিশের জলকামান ও রায়ট কার     রাখা হয়।

১৩ জানুয়ারি প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে ভিসি কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন শুরু করেন শাবিপ্রবির সিরাজুন্নেসা ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। পরে ১৫ জানুয়ারি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর কবিরের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শাবিপ্রবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। কোষাধ্যক্ষ ভেতরে ঢোকার জন্য আন্দোলনকারীরা তালা খুলতে যাওয়ার মুহূর্তে পেছনের দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন পুলিশের সদস্যরা। পরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা। তখন অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তার পর থেকেই উত্তপ্ত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।