রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ‘ইলেকশনস ডায়ালগ: ইওর পার্টি ভোটার কোয়েশ্চেনস’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে দ্য ডেইলি স্টার। এ সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ডেইলি স্টারের উপদেষ্টা সম্পাদক কামাল আহমেদ
বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে যাতে একটি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট থেকেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আত্মপ্রকাশ করছি ও সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য। সম্প্রতি ডেইলি স্টারের ওপর হামলা ও ক্ষতির নিন্দা জানাই। সংবাদপত্রের কর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
জাতীয় নাগরিক দল গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলটির প্রধান লক্ষ্য হলো বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ পরিবর্তনের তিনটি প্রধান ভিত্তি রয়েছে—প্রথমত, একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা; দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের অধিকারের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমে এবং তৃতীয়ত, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
আসন্ন নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি গণভোট হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনগুলো প্রতিফলিত হবে। আমরা জানি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস প্রতিশ্রুতি ভাঙার ইতিহাস। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পরও কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভাঙা হয়েছিল। এর ফলাফল ভালো হয়নি। আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের দিকে গেলেও সেটা আবার একটা ফ্যাসিবাদের দিকে গেছে। শুধু আওয়ামী লীগের ওপর আমরা দায় চাপাতে পারব না। আগের রাজনৈতিক দলগুলো—যারা ক্ষমতায় ছিল, যারা বিরোধী রাজনীতি করেছে, তাদের সবাইকে এর দায় নিতে হবে।
দুর্নীতি দমনে আমি ‘হিসাব দাও’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছি। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিটি প্রকল্পের খরচ জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামো পরিবর্তন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম, আহ্বায়ক, এনসিপি










