নারায়ণগঞ্জ গার্মেন্টসগুলোতে মুখে মাস্ক পরে এলেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ দিচ্ছে কারাখানা কর্তৃপক্ষ। এদিকে শ্রমিকরা কারাখানায় প্রবেশের আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা চেক করা,মুখে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জীবানুনাশক দিয়ে জুতা স্যান্ডেল পরিস্কার করে লাইন ধরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছু শ্রমিক মাস্ক ছাড়া কারখানার গেইটে আসেন তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। 

গার্মেন্টস মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়ার প্রথম দিনেই নারায়ণগঞ্জে ছিলো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভীড়। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা দুরদুরান্ত থেকে পায়ে হেটে, অটোরিক্সা, ইজিবাইক, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ার চেষ্টা করছেন। 

হঠাৎ গার্মেন্টস খুলে দেয়া এবং যানবাহন চালুর বিষয়টি পরে সিদ্ধান্ত হওয়ায় বেশীর ভাগ শ্রমিককেই বিকল্প পরিবহনে করে কাজে আসতে হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ সরকার গার্মেন্টস খোলা সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দিন আগে। কিন্তু শ্রমিকরা কি ভাবে আসবে এবং গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত দিয়েছে শনিবার বিকেলে । যে কারনে শ্রমিকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। গণপরিবহন চালু করা হলে নির্ধারিত ভাড়ার তিনচারগুন বেশী ভাড়া আদায় করছেন গণপরিবহনগুলো।

জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন হাসিনা বেগম, শাহানারা, আছিয়া আক্তারসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক। তাদের অভিযোগ পরিবহনের চালকরা তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫ শ টাকা করে ভাড়া নিয়েছে। তারা বলেন, আট হাজার টাকা বেতনে কাজ করে ১৫ শ টাকা ভাড়া দিয়ে যদি কাজে যোগদিতে হয় তাহলে আমাদের মতো গরিবের সংসার চালানো খুবই কষ্টের। 

জানা যায়,অনেকে সারারাত ট্রাক ও বাসে চড়ে নারায়ণগঞ্জে এসে সকালে সকাল আটা থেকে সাড়ে আটটায় নারায়ণগঞ্জে নেমেছেন। কোনো রকমে ব্যাগ বা লাগেজ বাসায় রেখেই চলে আসেন কাজে।

নারায়ণগঞ্জের মডেল গার্মেন্টেস এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (ভূমি ও উন্নয়ন) মনিরুজ্জামান জানান, প্রথম দিন হওয়ায় সকাল থেকে শ্রমিকরা আসছে। আমরা ১২টা পর্যন্ত যে সব শ্রমিক কাজে যোগ দিতে আসছেন তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছি। কারণ শ্রমিকরা দূরদূরান্ত থেকে আসছে বলে আমরা কড়াকড়ি করছি না। শ্রমিকদের শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আমার নিশ্চিত করছি। 

তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রমিককে মাস্ক পরে হাত স্যানিটাইজার দিয়ে পরীস্কার করে শরীরের তাপমাত্র মেপে এবং জুতা স্যান্ডল জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার করে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। বাইর থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতের অনেক নিরাপদে কাজ করছে। 

বিকেএমএইর সুত্র জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৫ হাজারের বেশী গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় ২০ লাখের বেশী শ্রমিক কাজ করে। প্রথম দিনে অর্ধেকের বেশী শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছে। এদিকে শ্রমিকরা ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী। তাদের যেন দ্রুত ভ্যাকসিন দেয়া হয় সেই দাবি জানান।