নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন কাউন্সিলর পদে ১৮ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল সোমবার (গতকাল)। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে মেয়র পদে কোনো প্রার্থীই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। আগামীকাল (আজ) মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
১৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই কাউন্সিলর প্রার্থী মাকসুদুল আলম খোরশেদের সঙ্গে যার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো, সেই রবিউল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি খোরশেদের কাছে আগের দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, চাপের মুখে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তবে মেয়র পদে কোনো প্রার্থীই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে সাতজন মেয়র পদে লড়াই করবেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর আলম খন্দকার, খেলাফত মজলিশের এবিএম সিরাজুল ইসলাম মামুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস।
এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আদিনাথ বসু স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার আচরণবিধি ভঙ্গ নিয়ে তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন জায়গার প্রচারণা করছেন, লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাইছেন।
তিনি বলেন, আইভী ও তৈমুর আলম পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশনে একে অন্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।










