সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজে করা যাবে করোনা পরীক্ষা। এখানে প্রায় ১০ মাস আগে কেনা একটি পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন কেনা হয়েছিল। সেটিই এখন সচল করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এটিকে কাজে লাগানো যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই মেশিন কেনা হলেও এখনো ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কাজের জন্য শত কোটি টাকা ব্যয়ে আরও সারঞ্জাম ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র বা ভেন্টিলেটর কেনা হয়েছে আটটি। 

নতুন একাডেমিক ভবনে এসব যন্ত্র প্যাকেটবন্দি অবস্থায় থাকলেও পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে পিসিআর যন্ত্র সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর গত ২৬ এপ্রিল কলেজ কর্তৃপক্ষ চাহিদাপত্র পাঠায়। তবে নতুন পিসিআর যন্ত্র দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত পিসিআর মেশিনটির বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। পরে জেনেছি। যে কারণে নতুন পিসিআর মেশিনের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে ছিলো। কর্তৃপক্ষ নতুন করে আর মেশিন দিবে না এবং আগেরটাই চালুর নির্দেশ দিয়েছে। যার কারণে সেই মেশিনটি চালুর জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কারিগরি কমিটি মেশিনটি দেখে প্রাথমিকভাবে বলেছে ভালো আছে। আমরা সেই মোতাবেক ১৩ জন চিকিৎসক, ৭ জন টেকনিশিয়ানসহ ২৯ জনের একটি টিম তৈরি করেছি। এই টিমকে আগামী শনিবার থেকে প্রশিক্ষণ দেবে কর্তৃপক্ষ। 

তিনি আরো বলেন, কিট, রি-এজেন্ট ও পিপিইসহ করোনা পরীক্ষার যাবতীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকেই সিরাজগঞ্জে করোনা শনাক্তের কাজ শুরু করা যাবে। 

তবে কলেজের ৮টি ভেন্টিলেটরের বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি।

এ বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, গত ১০ মাস আগে পিসিআর মেশিনটি অধ্যক্ষ নিজেই তার সার্ভে কমিটির মাধ্যমে বুঝে নিয়েছেন। তারপরেও স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন চাহিদা দেয়ার বিষয়টি বোধগম্য নয়। আটটি ভেন্টিলেটরও কলেজ স্টোরেই রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালেও স্বাস্থ্য অধিদদপ্তর থেকে সরবরাহ করা পাঁচটি ভেন্টিলেটর দুই বছর ধরে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো শাহজাহান বলেন,আমি প্রায় দেড়মাস হলো যোগদান করেছি। পাঁচটি ভেন্টিলেটর দুই বছর ধরে প্যাকেটবন্দি রয়েছে তা জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যন্ত্রগুলো দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে। আগে দেখতে হবে ব্যবহার উপযোগী আছে কিনা। মেশিনগুলো চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।