মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মানুষের এ ক্ষোভকে প্রশমিত করতে না পারলে আগামীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দলগুলোর প্রতিকূলে যাবে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও লিড কনসালটেন্ট রুবাইয়াত সারওয়ার।

সংস্থাটির ‘জনমতে ভোটের হিসাব: অনলাইন বনাম মাঠ জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব আলোচনা ওঠে।

উন্নয়ন গবেষণা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইনোভিশন কনসাল্টিং। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে ১৬ বছর ধরে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দারিদ্র্য দূরীকরণ, কৃষি, শিল্প ও এসএমই খাতের বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং এসডিজি বাস্তবায়নে দাতাসংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে সংস্থাটি। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থানের পর অনলাইন ও মাঠ পর্যায়ে মানুষের ভোটের মনস্তত্ব জানতে জরিপ পরিচালনা করে সংস্থাটি। তারই ফলাফল প্রকাশ করে মঙ্গলবার।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, অনলাইন ভোটের ফলাফলে ৩৫ শতাংশ ছাত্র সমর্থিত নতুন দলকে, ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামকে, ১০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে, ১০ শতাংশ বিএনপিকে, ৩ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট দিবে বলে জানিয়েছে। তবে ১১ শতাংশ এখনো নিশ্চিত নয় কাকে ভোট দেবে।

তাদের মাঠ জরিপে দেখা যায়, এক তৃতীয়াংশ মানুষ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তারা কাকে ভোট দেবে। ২১ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেবে, ১৪ শতাংশ জামাতকে ভোট দিবে এবং ১০ শতাংশ ছাত্র সমর্থিত নতুন দলকে এবং ৫ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে।

জেনারেশন জেড এবং মিলেনিয়ালদের মধ্যে ছাত্র সমর্থিত নতুন দলের প্রতি তীব্র সমর্থন আছে। তারা যদি নির্বাচনে আসে তাহলে জেনারেশন জেড ও মিলেনিয়ালরা তাদের বেছে নেবে। কৃষক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিএনপি এগিয়ে আছে। বেসরকারি চাকরিজীবিদের ফলাফলে জামায়াত-বিএনপি কাছাকাছি আছে।

রুবাইয়াত বলেন, মাঠ পর্যায়ের জরিপ পরিচালনা করতে গিয়ে দেখি, মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা মাঠে যখন গিয়ে জিজ্ঞেস করছি, কাকে ভোট দেবেন। তখন ভোটাররা জানতে চেয়েছে— প্রার্থী কে? আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, প্রার্থী কারা আপনাদের? তারা জানে না কারা তাদের প্রার্থী হতে পারে। গত ১৫ বছরে তো কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ফলে এখানকার স্থানীয় প্রার্থীরা হারিয়ে গিয়েছেন। কেউ তাদের প্রার্থীদের ভালোভাবে চেনেও না। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে এক বা একাধিক প্রার্থীকে পরিচয় করানো। মানুষ যে সংস্কার চাচ্ছে, সে সংস্কারে সহযোগিতা করা গুরুত্বপূর্ণ।

রুবাইয়াত সারোয়ার আরো বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে তৈরি দুঃশাসনের বড় কারণ হচ্ছে জনগণের মতামত সরকারের কাছে পৌঁছায়নি। জনগণের মতামতের এমপ্লিফায়েড ভার্সন পৌঁছেছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা, অনলাইনে পরিচালিত মতামত থেকে সরকার তথ্য নিয়েছে। গণমাধ্যমে যে জরিপগুলো হয় সেগুলো ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ তে সীমাবদ্ধ। তারা কিন্তু প্রকাশ করছে না এই হ্যাঁ-না কার কাছ থেকে আসছে, কোন বয়সী মানুষ দিচ্ছে, কোন লিঙ্গের মানুষ মত প্রকাশ করছে।

বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, আমাদের গবেষণায় আরো বেশি অর্থায়ন করা প্রয়োজন। অনেক সময় অনলাইন জরিপকে আমরা নিরুৎসাহিত করে থাকি। অনলাইন জরিপের যেমন কিছু ভালো দিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে কিছু। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী অনেকেই অনলাইনে নেই। কিন্তু যে পরিমাণ নাগরিক অনলাইনে আছেন, তাদের সবাই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ অনলাইনে সক্রিয়। এটা শুধুমাত্র একটা সংখ্যা নয়। বিষয়টা এমন নয় যে, একটা গ্রুপের মানুষ শুধু সেখানে কার্যক্রম চালায়, অন্য গ্রুপগুলো চালায় না। এটা সমাজকে রিফ্লেক্ট করে।