সিলেটের বন্ধ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে অটোরিকশায় গ্রিল সংযোজনে পুলিশের নির্দেশনা বাতিলের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকরা। ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগ বেড়েছে আরো।
ধর্মঘটের কারণে গতকাল সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। নগরের ভেতরে অটোরিকশা-লেগুনা চলাচলও বন্ধ রয়েছে। যানবাহন না থাকায় নগরের সড়কগুলো ছিল একেবারে ফাঁকা। রিকশা ও মোটরসাইকেল ছাড়া সড়কে আর কোনো যানবাহন দেখা যায়নি।
এদিকে ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন পরিবহন শ্রমিকরা। তারা ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
দুপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লাঠি হাতে অবস্থান নিয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। সড়কে গাড়ি দেখলেই লাঠি হাতে তেড়ে যাচ্ছেন তারা। এসব গাড়ির বেশির ভাগই ব্যক্তিগত। দু-একটি আছে বিদেশযাত্রী বহনকারী। এগুলোকেও বাধা দিচ্ছেন শ্রমিকরা।
ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা ধর্মঘট ডেকেছি। পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় ট্রাক মালিকরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছি। তাতে কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘট ডেকেছি। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দু-একটা ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। তবে আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলে বাধা দিচ্ছি না, বরং সহায়তা করছি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের নামে বিশৃঙ্খলা করলে কিংবা জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভছড়া এ পাঁচ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।










