কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বন বিভাগের অপহৃত তিন প্রহরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বেলা ২টার দিকে টেকনাফ বাহারছড়া পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।

উদ্ধার তিনজন হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে মোহাম্মদ শাকের, বকসু মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান ও আবদুস শুক্কুরের ছেলে আবদুর রহিম। এর আগে শুক্রবার তারা অপহরণের শিকার হন। রোববার দুপুরে ফোন করে শুরুতে ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা করে ৬০ লাখ দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। পরে মুক্তিপণের টাকার পরিমাণ কমিয়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও টেকনাফ থানার এসআই মন্জু।

এসআই মন্জু জানান, ৮ ঘণ্টার টানা অভিযানে গহিন পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের তিন প্রহরী অপহরণের পর থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সরাসরি পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি চিহ্নিত করা হয়। সর্বশেষ স্থানীয় বন বিভাগ, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিনজনকে উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও নেচার পার্ক মোচনী বন পাহারা দলের সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘স্থানীয় ও আমাদের বিভাগের ৩২ জন মিলে গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারীরা ১৬ জনের মতো ছিল। আমাদের দেখে অপহৃত তিনজনকে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। উদ্ধার প্রহরীদের তিনজনই সুস্থ আছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।’

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোবাইর সৈয়দ বলেন, ‘অপহৃত বনকর্মীদের পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ আদায় করছে কিনা তা জানা নেই। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’ 

গত সাড়ে আট মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮৬ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪২ জন স্থানীয় বাসিন্দা, বাকি ৪৪ জন রোহিঙ্গা। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৯ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অপহরণ, খুন ও ডাকাতি অব্যাহত রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফে।