বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেড় যুগেরও বেশি সময় পর গতকাল বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাবার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর দোয়া ও মোনাজাত করেন। পরে তিনি সেখানে কিছু সময় কাটান, এ সময় তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

এদিন বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে শেরেবাংলা নগর এলাকায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। সে সময় বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গণমাধ্যমকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের শেরেবাংলা নগর এলাকা ও আশপাশে ঢুকতে বাধা দেন। শুধু সিনিয়র নেতাদের ঢুকতে দেয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তারেক রহমানের পাশে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষ খুশি হয়েছে, জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, জনগণ উজ্জীবিত হয়েছে।’

এর আগে এদিন বেলা ৩টার দিকে তারেক রহমান গুলশানের বাসভবন থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধির উদ্দেশে রওনা হন। দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। সে হিসাবে মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ১৯ বছরেরও বেশি সময়।

তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে শেরেবাংলা নগর ও আশপাশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বেলা ১টা থেকে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ব্যানার ও দলীয় নেতার ছবি নিয়ে এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন এবং ছোট ছোট মিছিলে অংশ নেন। পার্কের ভেতরে থাকা দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয় এবং কাউকে সমাধির কাছে যেতে দেয়া হয়নি।

এদিকে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি মূল ফটক দিয়ে স্মৃতিসৌধ চত্বরে প্রবেশ করেন। এরপর স্মৃতিসৌধের বেদির সামনে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া স্মৃতিসৌধে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে বিকালে তারেক রহমানের পক্ষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের নেতারা। পরে বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্মৃতিসৌধের মূল ফটকে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে তিনি (তারেক রহমান) ওখান থেকে স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। যেহেতু পুষ্পস্তবক অর্পণ করার একটি নিয়মনীতি রয়েছে, সেটি সূর্যাস্তের আগে, তাই আমরা তার পক্ষ থেকে ৫টা ৬ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলাম।’

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও লুৎফুজ্জামান বাবর, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে দলের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস প্রমুখ।

এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ ও অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএনপি। গতকাল দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দুঃখ প্রকাশ করা হয়।