নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। কেউ বলছেন, সবুজ শ্যামল জনপথ, নগর গড়ি নিরাপদ। আবার কেউ বলেছেন, গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে নারায়ণগঞ্জকে। বিশেষ করে মেয়র পদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির কর, ট্রেড লাইসেন্স ফি কমানো হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী এ প্রতিশ্রুতিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর স্টান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার গতকাল নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। সকাল ১০টা থেকে আওয়ায়ামী লীগের প্রার্থী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার সিটি করপোরেশনের ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চালান। এ সময় তৈমুর আলম খন্দকার
নারায়ণগঞ্জকে গ্রিন ও ক্লিন শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে ভোটাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন। তৈমুর আলম খন্দকার নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিতাইগঞ্জ, শীতলক্ষ্যা, তামাকপট্টি, বাপ্পি চত্বরসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে ভোটারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তৈমুর আলম খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে অনেক সমস্যা। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। উদ্যোগ ও ইচ্ছাই
যথেষ্ট। তিনি বলেন,
নির্বাচিত হতে পারলে নারায়ণগঞ্জকে গ্রিন ও ক্লিন সিটিতে রূপান্তর করা হবে। সিটি করপোরেশনের যেখানেই খালি জায়গা পাওয়া যাবে সেখানেই একটি হলেও গাছের চারা রোপণ
করা হবে। যারা ছাদবাগান করে খাদ্যের চাহিদা মেটাবে এবং বায়ুদূষণ রোধে কাজ করবে সেসব ছাদবাগানের মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হবে। ছাদবাগান করার জন্য
অন্যদেরও উৎসাহিত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভী বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্স
কমিয়ে দেয়ার যে প্রতিশ্রুত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দিয়েছেন তা স্টান্টবাজি। কারণ এটি নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। উত্তরে তৈমুর বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী যারা হোল্ডিং ট্যাক্স দেন তারা জানেন হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে কিনা।
এদিকে আইভী সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি, মধ্যজাল কুড়ি, উত্তর জালকুড়িসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মল্লায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এ সময় তিনি বিগত বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে পুনরায় নৌকায় ভোট চান। তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হোল্ডিং ট্যাক্স ও ওয়াসার পানির কর কমানো এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি কমিয়ে আগের অবস্থায় নিয়ে যাবেন বলে ভোটারদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা রাজনৈতিক স্টান্টবাজি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তৈমুর আলম খন্দকার যখন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ছিলেন তখন বাসের ভাড়া কমিয়েছিলেন নাকি বাড়িয়ে বিআরটিসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন? তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা মিথ্যা। তিনি বলেন, ওয়াসার ৩ শতাংশ কর তিনি কীভাবে মওকুফ করবেন। প্রতি মাসে ওয়াসার শুধু বিদ্যুৎ বিল আসে ২০ লাখ টাকা। সে বিল তিনি কীভাবে শোধ করবেন। এছাড়া ওয়াসার পানির লাইন সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় কোত্থেকে আসবে? আমি মেয়রের দায়িত্ব পালনের সময় সিটি করপোরেশনের সবার হোল্ডিং ট্যাক্স ১৫ শতাংশ করে মওকুফ করে দিয়েছি। এবার যদি নির্বাচিত হই তাহালে আরো কমানো যায় কিনা সেই দিকটা বিবেচনা করব।










