আধিপত্য বিস্তারে কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়া হয়েছে। এতে ২ হাজার ৮০৫টি ঘর পুড়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১৫ হাজার ৯২৬ রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২১২ জন। জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত কমিটির হস্তান্তর করা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনার অধিক তদন্ত করতে মামলাসহ ১২টি সুপারিশ করেছে কমিটি।
গতকাল বিকালে চার খণ্ডের মোট ৭৪ পাতার প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রায় ৭৫ জন রোহিঙ্গার বক্তব্য গ্রহণ করেছে। তাদের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে জানা যায় নাশকতার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়া হয়। আগুনে পুড়ে যায় আড়াই হাজার ঘর। এতে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া আগুনে কাঠের ব্রিজ, লার্নিং সেন্টারসহ বেশকিছু অবকাঠামোও পুড়ে যায়। তবে কারা আগুন লাগিয়েছে সেটি চিহ্নিত করা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হবে। মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে জড়িতদের বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
মো. আবু সুফিয়ান আরো বলেন, ‘সংঘটিত ঘটনায় মামলা দায়ের, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বতন্ত্র ফায়ার সার্ভিস চালু, প্রতিটি ব্লকে ওয়ারলেস টাওয়ার নির্মাণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ ১২টি সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।’
গত ৫ মার্চ রোববার উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১১) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ানকে প্রধান করে সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনার রহস্য অনুসন্ধানে মাঠে নামে এ কমিটি। গঠিত কমিটিতে জেলা পুলিশের একজন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের একজন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন, ফায়ার সার্ভিসের একজন, গোয়েন্দার সংস্থার একজন প্রতিনিধি রাখা হয়।’
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে আশ্রয়শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২২২টি। এর মধ্যে ৯৯টি দুর্ঘটনাজনিত। ৬০টি নাশকতামূলক ও ৬৩টির কারণ জানা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আরসাসহ তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং সাতটি ডাকাত দল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় রয়েছে। বেশির ভাগ ক্যাম্পের ওপর আরসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ২০২১ সালে আশ্রয়শিবিরে ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে খুন হয়েছে ৩২ জন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, আশ্রয়শিবিরে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২০২১ সালের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালী এলাকার তিনটি (ক্যাম্প-৮, ৯ ও ১১) আশ্রয়শিবিরে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসতি পুড়ে ছাই হয়েছিল। গৃহহীন হয়েছিল ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যায় ছয় শিশুসহ ১৫ রোহিঙ্গা।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন আট লাখ রোহিঙ্গা।










