শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কিছুক্ষণ পরপর বেজে উঠছে অ্যাম্বুলেসের সাইরেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

বর্তমানে ৭ জন শিক্ষার্থী ভিসির বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা অনেকটা দুর্বল হওয়ায় প্রায় সবাইকেই স্যালাইন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দেয়া হচ্ছে।তবে এখনও অনশন ভাঙেননি কেউ। আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান,শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এনিয়ে ১৬ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৩ জনকে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩ জনকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে,শাবিপ্রবির চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষকের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকায় গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিধিদলের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।

গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাবিপ্রবির ২৪ শিক্ষার্থী।তাদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে একজন বাসায় চলে গেছেন। 

প্রসঙ্গত, ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বেগম সিরাজুননেসা ছাত্রী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তারা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলা হয়। এরপর আন্দোলন ভিসির পদত্যাগের একদফা দাবিতে পরিণত হয়। বর্তমানে ১০ম দিনের মত কর্মসূচি চলছে।