চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সংগঠনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। নিজের ফেসবুক আইডিতে গত শুক্রবার রাতে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান উমামা। দীর্ঘ ওই পোস্টে সংগঠনের কমিটি দেয়া নিয়ে নানা অনিয়ম, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনিয়ম এবং দলের কাউন্সিলেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে উমামা লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়েছে গত পরশু (বুধবার)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে আমার আনুষ্ঠানিক যাত্রা এখানেই শেষ হলো।’
এ প্লাটফর্মে কাজ না করার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ এনে তিনি লেখেন, ‘এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নামক রাজনৈতিক দলটি গঠনের পর আমি জুলাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো করার দায়বদ্ধতা থেকে এ ব্যানার নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু দলীয় লেজুড় ও প্রেসক্রিপশনের বাইরে এ ব্যানারটি স্বাধীনভাবে কাজ করলে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ত। তাই আমার ওপর অনলাইন, অফলাইনে ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে আমি এ ব্যানার নিয়ে কাজ না করি।’
নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছের কথা তুলে ধরে উমামা লেখেন, ‘আমি পুরা বিষয়টাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই একটা সুনাম থেকে ব্যানারকে সচল করার চেষ্টা করেছিলাম। পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আমার আলাদা করে বলার কিছু নেই। যে মানুষগুলার সাথে আমি পাশে দাঁড়ায়ে মিটিং করছি, মিছিল করছি তারাই পরিকল্পিতভাবে জুনিয়রদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা চালায়। মানুষ বাইরে যত ভালো সাজার চেষ্টা করুক ভেতর থেকে কতটা ছোটলোক হতে পারে আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই ওই সময়গুলাতে। কথিত এই সহযোদ্ধারা মানুষকে টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহার করে, প্রয়োজন শেষ হলে ছুড়ে ফেলতে এক মুহূর্তও লাগে না। আমি মার্চ-এপ্রিল মাসে এ প্লাটফর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি পোকার মতো ভেতর থেকে প্লাটফর্মকে সুবিধাবাদীরা খেয়ে ফেলেছে।’
চোখের সামনে এসব দেখা কঠিন মন্তব্য করে উমামা লিখেছেন, ‘আমার সাথে অনেকের কথা হয় এখনো। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে চেষ্টা করি সাজেশন দেয়ার, সাহায্য করার। জুলাই অভ্যুত্থানের মতো এত বড় ঘটনা দেখার পর চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখাটা অনেক অনেক কঠিন। আমার বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের সাথে পরামর্শ করে এ ব্যানার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বৈষম্যবিরোধী ব্যানারের থেকে সরাসরি পদত্যাগ না করলেও এ ব্যানারের সাথে কার্যত সম্পর্ক ছিন্ন করি গত এপ্রিল-মে মাসে।’
অভ্যুত্থানের পর ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়া উমামা আক্ষেপ নিয়ে লেখেন, ‘রাজনৈতিকভাবে ভাবলে পদত্যাগ করে আসাটা সবথেকে সহজ। কিন্তু আমি তো মানুষ, অনেক কঠিন, অভ্যুত্থানের কারণে পারি নাই। আমি এ প্লাটফর্মে তো দেশ সংস্কার করতে আসছিলাম। কাদা ছোড়াছুড়ি করতে তো আসি নাই এখানে।’
সংগঠনের সর্বশেষ কাউন্সিলে কারচুপির অভিযোগ তুলে উমামা লেখেন, ‘আমি শেষ দিন পর্যন্ত কাউন্সিলে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যারা কাজ করতে চায়, তারা বেশির ভাগ এ কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ারই সুযোগ পায়নি। ভোটার খুব সীমিত, যার মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন সব। আমি ভিতর থেকে চাচ্ছিলাম এ প্লাটফর্মটার অন্তত ভালো কিছু হোক। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম যেভাবে সাপের মত আষ্টেপৃষ্ঠে প্লাটফর্মকে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে, এখান থেকে ভালো কিছু অসম্ভব। এখন বোধ করি এ প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর অব্যাহতি নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তিনি মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন।










