ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে লইসকা বিলে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় মামলা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে সেলিম মিয়া নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে বিজয়নগর থানায় মামলাটি করেন।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন বালিবাহী বাল্কহেডের চালক জেলার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শোলাবাড়ীর জমির মিয়া (৩৩), মো.
রাসেল (২২), খোকন
মিয়া (২২), মো.
সোলায়মান (৬৪) ও বিজয়নগর পত্তন ইউনিয়নের কালারটেক গ্রামের মিস্টু মিয়া (৬৭)। বাকি দুজনের নাম জানায়নি পুলিশ।
মামলার বাদী সেলিম মিয়া বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের গেরারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় তার চার স্বজন মারা গেছে।
ঘাট শ্রমিক, চালক ও স্থানীয়রা এজন্য দায়ী।
তিনি, আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়, সেজন্য পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্য দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এছাড়া দুটি বাল্কহেড আটক করার কথা জানান তিনি।
এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল সকালে পানিতে ভেসে ওঠে তিন বছরের নাশরা মুনীর মরদেহ।
শুক্রবার সে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে চাচির সঙ্গে নিখোঁজ হয়।
চাচির মরদেহ উদ্ধার হলেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
সকালে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২।
এদিকে দিনভর খোঁজাখুঁজির পর বিকালে জেলা প্রশাসন উদ্ধারকাজ সমাপ্তি ঘোষণা করে।
উদ্ধারকারী সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হয়, কারো স্বজন নিখোঁজ থাকলে যোগাযোগ করতে।
কিন্তু বারবার এ আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি । পরে সংশ্লিষ্টরা ধরে নেন আর কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ তালিকায় নেই।
এরপরই উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি: জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা গতকাল সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তারা ডুবে যাওয়া স্থান ও ট্রলার যেখান থেকে যাত্রা করে সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ প্রতিবেদককে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন জানান, অন্তত ২০-২২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।










