দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকানে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা তুলতে তুলতে নওগাঁ থেকে আসা সার্কাসের হাতি সিরাজগঞ্জে মারা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার সীমান্ত বাজার এলাকার পেট্রোল পাম্পের পাশে হাতিটির মৃত্যু হয়।
করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সার্কাসের কোন প্রদর্শনী না থাকায় চাঁদা তুলেই হাতিটির খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল।
হাতিটির মাহুত সোহেল হোসেন জানান, বেশ কয়েক মাস আগে হাতিটির পক্স (বসন্ত) হয়েছিল। নওগাঁয় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত ২০ দিন ধরে হেঁটে হেঁটে নওগা থেকে সিরাজগঞ্জে আসার পর হাতিটি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুধবার রাত থেকেই অসুস্থতা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে হাতিটি মারা যায়।
তিনি বলেন, হাতিটির বয়স প্রায় ৮৫ বছর। এর মালিক আব্দুল জলিলের বাড়ি সিলেটে। তার আরও ৫টি হাতি রয়েছে। তিনি এলেই মারা যাওয়া হাতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মাহুত সোহেল আরও বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সার্কাস প্রদর্শনী বন্ধ থাকায় মানুষের কাছে টাকা তুলে হাতিটির খাবারের জোগাড় করা হচ্ছিল।
সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, হাতিটির মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এটি দেখতে শত শত মানুষ এখন ভিড় করছেন।
সিরাজগঞ্জ সামাজিক বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঋষিকেশ চন্দ্র রায় বলেন, হাতিটির মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। ওই হাতির মালিকের কোন লাইসেন্স রয়েছে কিনা এবং হাতিটি বৈধ পথে আনা হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। যদি অবৈধ হয় তাহলে মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও হাতিটির কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ভুইয়া বলেন, হাতিটির কীভাবে মৃত্যু হল তা পরীক্ষা করতে চিকিৎসককে পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির জানান, হাতিটির মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। ব্যক্তি মালিকানার হাতিটির চিকিৎসার অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।










