বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। গতকাল সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় শ্রমিকরা পাওনা পরিশোধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করে। এতে ওই সড়কটি ৪ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

শ্রমিক, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের কুনতুং অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে গতকাল সকালে ইপিজেডের গেটের সামনে সড়কে অবস্থান নেয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, এ সময় ইপিজেডে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে প্রায় ৪ ঘণ্টা ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় পুলিশ ও ইপিজেডের কর্মকর্তারা তাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের কথা শুনে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ও আনসারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশও পাল্টা টিয়ার গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে। কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে। এতে পুলিশসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শ্রমিক রিনা, তানিয়া ও শায়লা জানান, তারা ওই কারখানায় ছয় বছর কাজ করেছেন। কিন্তু তাদের এখনো বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কুংতুং অ্যাপারেলস কারখানাটি আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। ওই কারখানার ৪০০-৫০০ শ্রমিক তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, আদমজী ইপিজেডের কুনতুং অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ রাউন্ড শটগান, গুলি ও ১১ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকদের ছঙ্গভঙ্গ করলে তারা রাস্তা থেকে সরে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি আরো জানান, শ্রমিকদের ইট-পাটকেলের আঘাতে সাত-আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে আদমজী ইপিজেডের জিএম আহসান কবিরের সেলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।