শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ও ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে একজনকে অসুস্থ অবস্থায় সিলেটের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনশনরত অন্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী একটি মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।
আন্দোলনের সপ্তম দিনে বুধবার বেলা আড়াইটা নাগাদ অনশনে যান ২৪ শিক্ষার্থী। আন্দোলনের অষ্টম ও অনশনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বেশ কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে প্রতিবারই তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টা নাগাদ কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। ওই সময় ড. আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চাই এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে এ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হোক। যে-ই এর সঙ্গে জড়িত থাকবে, আমরা তাকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করব।
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে সুন্দর একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আমরা বারবার আসছি এবং আবারো আসব। আর যাতে রক্ত না ঝরে এবং যারা রক্ত ঝরিয়েছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে এসেছি। তোমাদের সঙ্গে এক হয়ে আমরা এগুলো বন্ধ করতে চাই। আমি জানি তোমাদের কষ্ট আছে। এগুলো দূর করার জন্যই আমরা বারবার আসছি।
এ সময় শিক্ষকরা প্রশাসনের কাছে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। অনশন প্রত্যাহারের প্রস্তাবে আন্দোলনরতরা রাজি না হওয়ায় শিক্ষকরা ফিরে যান। এরপর বেলা ২টার দিকে তারা আবারো আসেন। এ সময় তারা অনশনরত চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় আবারো ফিরে যেতে হয় তাদের।
টানা দুইদিনের অনশনে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল বেলা দেড়টায় কাজল দাশ নামের এক শিক্ষার্থীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। এছাড়া আরো দুজনের অবস্থাও খুব একটা সুবিধাজনক নয়। তাদের মধ্যে একজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলে বলেন, ভিসি প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। গতকালও তিনি গণমাধ্যমে মিথ্যাচার ও বানোয়াট তথ্য দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা গত রোববার ভিসিকে কার্যালয়ের সামনে দেখতে পেয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু ভিসি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে আইআইসিটি ভবনে ঢুকে যান। পরে সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুললে পুলিশ আসে। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অহিংস অবস্থান থেকে পুলিশকে ফুলও দেয়। কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তারা বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো অশোভন আচরণ করেনি এবং বর্তমানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।
রোববার পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর শাবিপ্রবির উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিনই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হলে অবস্থান ও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনশন চলছিল।










