ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের গুলিতে রফিকুল ইসলাম নয়ন নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে গতকাল বিকালে উপজেলা সদরে লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ নয়নকে গুরুতর আহতাবস্থায় প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পথে তিনি মারা যান। একই ঘটনায় পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমান আলীও গুরুতর আহত হন। বাকি আহতদের নাম পরিচয় তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় বিএনপির গণসমাবেশ হবে। এ সমাবেশ উপলক্ষে গতকাল বিকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিলসহ লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ সেখানে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে।

এ সময় পুলিশের ছোড়া শর্টগানের গুলিতে সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন পেটে ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় ইমান আলীও গুরুতর আহত হন। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলাকালে বিএনপির আরো তিন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান কামাল হোসেন দাবি করেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লিফলেট বিতরণ করছিলাম। বিনা উসকানিতে পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের অন্তত পাঁচ-সাত নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্ল মো. শাহীন দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে। এতে একজনের গায়ে গুলি লাগে। আহত ব্যক্তিকে ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।