ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর বন্দরের ড্যামারেজ মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘অনেক আমদানিকারক চলমান পরিস্থিতির কারণে পণ্য খালাস করতে পারেনি। তাদের অনেকের একটা চার্জের মুখোমুখি চলে এসেছে। করোনার সময়ও চট্টগ্রাম বন্দর ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ওয়েভার দিয়েছিল। কারণ শুধুই ব্যবসা করার জন্য নয়, দেশের অর্থনীতিকে সেবা করার জন্য এ বন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সঠিক তথ্যপ্রমাণসহ এলে আমরা পাশে দাঁড়াব।’
গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত ৬ হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কনটেইনারের ওপর বন্দরের ড্যামারেজ আদায় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ আশঙ্কার মধ্যে থাকে, চট্টগ্রাম বন্দরে ঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা। আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন এখনো নিরাপদ আছে। তবে আমরা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন করতে পারিনি। ডিজিটাল সার্ভার স্টেশন, ডাটা সেন্টার পুড়িয়ে দেয়ার কারণে আমাদের কিন্তু ডিজিটাল প্লাটফর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কাস্টমস তাদের কার্যক্রম করতে পারেনি বলেই চট্টগ্রাম বন্দরে আজ এ কনটেইনার জট তৈরি হয়েছে। কারণ কাস্টমস এখন পুরোপুরি ডিজিটালি কাজ করে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা স্লো হয়ে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির বিরাট একটা ধাক্কা। আমি জানি না এ ধাক্কা কীভাবে কাটিয়ে উঠবে।’
রেলপথে কনটেইনার পরিবহন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘রেল বন্ধ হয়ে গেছে, নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্রিজ-কালভার্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেলসংযোগ হওয়ার কারণে কমলাপুর আইসিডি অনেক সংকুচিত হয়েছে। অ্যালাইনমেন্ট আমাদের আইসিডির ওপর দিয়ে গেছে। পানগাঁওতে কিছুটা স্থবির অবস্থা তৈরি হয়েছিল। করোনার সময় কনটেইনার জট হয়েছিল। তখন অফডক, কাস্টমস, এনবিআর সাপোর্ট দিয়েছিল। সম্মিলিতভাবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। আমি মনে করি, খুব দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারব।’










