চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) সহযোগিতায় ২০২২ সাল থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৩৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ৭০ শতাংশ একবার ব্যবহারযোগ্য এবং ৩০ শতাংশ শক্ত প্লাস্টিক। এসব বর্জ্য প্রায় ১৮০টি রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছর আরো আট হাজার টন প্লাস্টিক সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। সকালে ‘ইয়ুথ জার্নালিজম প্রোগ্রাম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এতে প্রায় ৩০ জন অংশ নেন। পরে তারা পাহাড়তলী বালিকা বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, চসিকের আরেফিন নগর বর্জ্য ডিপো পরিদর্শন এবং ২ নম্বর গেট এলাকার চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ইউনিলিভারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এসএম ফয়সাল বলেন, ‘প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার বর্জ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০০ জন চসিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এছাড়া ২২০ জন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষণ এবং প্রায় দুই হাজার সংগ্রহকারীর মধ্যে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সাল থেকে ১ হাজার ৮২৭ জন বর্জ্যকর্মীকে গ্রুপ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২০টি বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি পরিবার বর্জ্য পৃথক্‌করণ করছে, যা চলতি বছর আরো ১০ হাজার পরিবারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৪১টি আবাসিক এলাকা, ১০টি বাজার ও ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন রঙের বর্জ্য বিন স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয় যার বড় অংশ প্লাস্টিক। এর একটি অংশ রিসাইক্লিং হলেও বাকিটা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ, চসিক ও ইপসা যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।