বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দিতে চার সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। কমিটিতে সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি এর আগে অর্থ সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সার্চ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কামাল মুজেরী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বদরে মুনির ফেরদৌস সার্চ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফছানা বিলকিস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী ডেপুটি গভর্নর পদে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ২০১৬ সালের মার্চে যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তা পুনর্গঠন করে নতুন সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নরের মধ্যে গতকাল দুজন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মাসুদ বিশ্বাসও পদত্যাগ করেছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে এ তিনজন পদত্যাগপত্র জমা দেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাসেরও পদত্যাগ করেছেন। তিনি গভর্নর বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ চার কর্মকর্তাকে গতকাল বেলা ১টার মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। এমন নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়। এরপর ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, চার ডেপুটি গভর্নর, উপদেষ্টা ও বিএফআইইউ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

একপর্যায়ে তারা ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমানের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালান। এ সময় জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরও করিয়ে নেন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাকি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের অসততা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে দেশের ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে পড়েছে। তারা এ খাতের দুর্বৃত্তদের অর্থ লুণ্ঠনে সহযোগী ছিলেন। এর বিনিময়ে তারা আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী হয়েছেন।