গণতন্ত্র ও ন্যায্য সমাজ গঠনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও গণতন্ত্র পাইনি, ন্যায্য সমাজ পাইনি। সেই না পাওয়া থেকেই জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পেয়েছি। এই আন্দোলন ছিল অধিকার আদায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন।

আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জাতি আজ স্বপ্ন দেখছে শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজের। এ দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে সুষম বণ্টনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবর্তন বক্তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. আবুল কাসেম চৌধুরী বলেন, আমরা ভালো মানুষ হতে পারিনি। ভালো মানুষ তৈরি করার জন্যই গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭২ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ দেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজ বিরাট এক বৃক্ষে পরিণত হয়েছে— গণ বিশ্ববিদ্যালয়, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস, গণপ্রকাশনী, গণমুদ্রণসহ আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিমউদ্দীন খান বলেন, শুধু ডিগ্রি দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। দক্ষ ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ তৈরি করাই আসল উদ্দেশ্য।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনায় রেখে পাঠদান করতে হবে। দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময় করতে হবে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হলেও এখান থেকেই নতুন যাত্রা শুরু হবে। শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। জীবনভর তা অর্জনের মাধ্যমেই বড় সাফল্য আসবে।

সমাবর্তনে ৭৭২৭ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২৪৭৮ জন নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সকালে সমাবর্তন শোভাযাত্রায় সভাপতিসহ অতিথিরা ও গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শিরীন পারভীন হক, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান। শোভাযাত্রাটি পরিচালনা করেন ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মোকলেছুর রহমান সরকার। —বিজ্ঞপ্তি