বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সোসাইটি দিবস উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন।

শনিবার (১৭ মে) ঢাকায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছা. মাহবুবা ফারজানা।

অধ্যাপক খন্দকার মামুন ইউআইইউর এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বিষয়ক অধ্যাপক এবং একই প্রতিষ্ঠানে এইমস ল্যাব ও ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, ইনোভেশন, ইনকিউবেশন অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশনের (আইরিক) প্রতিষ্ঠাতা। গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন।

সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি ‘সিমেড হেলথ’ নামে একটি রিসার্চ-টু-কমার্শিয়ালাইজড উদ্যোগ চালু করেন। এটি ‘ইন্টেলিজেন্ট জেনারেল প্র্যাকটিশনার (আইজিপি)’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেল চালু করে, যা কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

এ মডেল ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখেরও বেশি মানুষকে সেবা দেয়া হয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, তৈরি হয়েছে ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাকাউন্ট। এতে প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য কমানো ও ব্যক্তিগত ব্যয়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পেয়েছে। এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশেও সম্প্রসারণযোগ্য।

প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের পাশাপাশি, অধ্যাপক মামুন ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, প্রতিবন্ধীদের সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষা প্রযুক্তির ওপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণা করছেন। তার উদ্ভাবন বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শক হিসেবে ন্যাশনাল এআই স্ট্র্যাটেজি, ডিজিটাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি, প্রতিবন্ধীবান্ধব নীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষানীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। —বিজ্ঞপ্তি