চলমান পরিস্থিতিতে পোশাকসহ সব শিল্প-কারখানা স্বাভাবিক নিয়মে চালু রাখতে উদ্যোক্তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তা সমাধানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম এতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষে ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি জাভেদ আখতার, বিটিএমএ সভাপতি (ইনচার্জ) মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাহাবুবুর রহমান, সেনাবাহিনীর টাস্কফোর্স কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং বিজিবি ও র্যাবের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় জীবনের সাম্প্রতিক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধৈর্য ও বিচক্ষণতা সহকারে যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আজকের মধ্যে গাজীপুরে ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ৯৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় শতভাগ পোশাক কারখানা খুলে গেছে।’
বৈঠকে দেশের শিল্প-কারখানাগুলোয় আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এ সময় অভিযোগ করা হয়, পোশাক শিল্প অধ্যুষিত শিল্পাঞ্চলগুলোয় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে। আধিপত্য বিস্তার করতে শিল্পাঞ্চলগুলোয় গড়ে উঠেছে একাধিক সন্ত্রাসী দল, যারা এসব এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরি করে পরিবেশ অশান্ত রাখছে, পাশাপাশি মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। পোশাক শিল্প এদের হাতে জিম্মি। এ খাতকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য ব্যবসায়ীরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোয় রফতানিসহ সব শিল্পের পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তার জন্যও অনুরোধ জানান। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য লোডিং ও আনলোডিংয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ করা হয়, যার মাশুল দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এতে করে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতাও কমছে। একইভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ঘটে। ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য লোডিং ও আনলোডিং দ্রুততর করা এবং ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে পণ্য খালাস দ্রুততর করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ীরা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গঠিত জয়েন্ট টাস্কফোর্সকে সাম্প্রতিক সময়ে ভাংচুর করা কারখানাগুলো পরিদর্শন করে উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্যও অনুরোধ জানান।
বৈঠকে মেজর জেনারেল মো. মঈন খান বলেন, ‘এ মুহূর্তে সেনাবাহিনীর অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে শিল্প খাত যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তা নিশ্চিত করা। সাভার ও আশুলিয়ায় শিল্প-কারখানাগুলোয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্স এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।’
ঝুট ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যেসব সন্ত্রাসী মাঠে তৎপর রয়েছে, তাদের বৃত্তান্ত দেয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতাদের অনুরোধ জানান এ সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আর একটি কারখানাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা শিল্পপুলিশ দেখবে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য লোডিং ও আনলোডিং আরো দ্রুততর করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’










