কোম্পানি দুটি হলো মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ও ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এসব তথ্য জানা গেছে।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি: কোম্পানিটির পর্ষদ সভা ২৮ জুন বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হবে।

বীমা খাতের তালিকাভুক্ত মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির জীবন বীমা তহবিল গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে প্রায় ১৪ কোটি ২ লাখ টাকা বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৫১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জীবন বীমা দাবিসহ মোট আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় মেঘনা লাইফের ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ঘাটতি হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে জীবন বীমা দাবিসহ মোট আয়ের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় কোম্পানিটির উদ্বৃত্ত ছিল ১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে মেঘনা লাইফ। ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় মেঘনা লাইফ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আগের হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৮ ও ২০১৭ হিসাব বছরেও একই হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট: কোম্পানিটির পর্ষদ সভা ২৫ জুন বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হবে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইসলামিক ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৯৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৭১ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ইসলামিক ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ইসলামিক ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৪২ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইসলামিক ফাইন্যান্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৫৬ পয়সায়।

ইসলামিক ফাইন্যান্সের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবিবি’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-৪’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।