দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেক ঋণগ্রহীতা ও ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ব্যাংকে তাদের বকেয়া অর্থ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারেননি। অনেক আমানতকারী ডিপোজিট পেনশন স্কিমসহ (ডিপিএস) বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে সক্ষম হননি। এ দুই শ্রেণীর গ্রাহকদের বাড়তি সুদ বা জরিমানা ছাড়াই অর্থ পরিশোধে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহক ঋণের কিস্তি, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিল ও সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। গতকাল পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের পরিশোধযোগ্য অর্থ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করা হলে ওই বকেয়া অর্থের ওপর কোনো ধরনের সুদ বা মুনাফা এবং দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত সুদ, অতিরিক্ত মুনাফা, বিলম্ব ফি কিংবা জরিমানা (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায় বা আরোপ করা যাবে না।
ডিপিএসসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি গ্রাহক কর্তৃক ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করা হলে সেটির ওপরও কোনো ধরনের বিলম্ব ফি বা জরিমানা আদায় বা আরোপ করা যাবে না। এ সময়ে কোনো সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকের অসমর্থতার কারণে তা বন্ধ বা বাতিল করা যাবে না এবং পূর্বঘোষিত হারের তুলনায় কম সুদ বা মুনাফা প্রদান করাও যাবে না।
ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও একই রকম নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এরই মধ্যে বর্ণিত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের ওপর সুদ বা মুনাফা ও দণ্ড সুদ, বিলম্ব ফি এবং ডিপিএসসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের ওপর কোনো ধরনের বিলম্ব ফি, জরিমানা আদায় বা আরোপ করা হয়ে থাকলে তা ফেরত দিতে হবে।
গত ১৮ থেকে ২৫ জুলাই (আজ) পর্যন্ত পরিশোধযোগ্য ঋণের বকেয়া অর্থ পরিশোধ, ক্রেডিট কার্ডের বিল এবং ডিপিএসসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে। নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।










