ইসরায়েলি হামলার কারণে ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক কাঠামো স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে অঞ্চলটির প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপগুলোর ওপর। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সম্প্রতি সে পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
আগামী সপ্তাহে ব্যাংক অব প্যালেস্টাইন একটি উদ্যোগ কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত স্টার্টআপগুলো ২০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পাবে।
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে ফিলিস্তিনের অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের অবদান ছিল ৫০ কোটি ডলারের বেশি, যা পশ্চিম তীর ও গাজার জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ। ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানায়, অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এর মধ্যে গাজায় কর্মসংস্থান হারিয়েছে দুই লাখের বেশি মানুষ। অন্যদিকে পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলে প্রবেশের সুবিধা না থাকায় ১ লাখ ৪৮ হাজার অধিবাসী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অতিরিক্ত সহিংসতা, সরবরাহ চেইনের সংকট, উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাসসহ কর্মক্ষেত্রে যোগদানের সমস্যার কারণে আরো ১ লাখ ৪৪ হাজার অধিবাসী কর্মসংস্থান হারিয়েছে।
কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সন্ধানে সহায়তা করে ট্যালেন্ট এক্সিলারেশন প্লাটফর্ম (টিএপি)। যুদ্ধের কারণে কার্যক্রম প্রভাবিত হলেও সংস্থাটি সাধ্যমতো সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। প্লাটফর্মটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জাফর সুন্নার জানান, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে জাফর সুন্নার বলেন, ‘গাজায় যারা বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে কাজ করত তাদের অধিকাংশই এখন কর্মসংস্থানের বাইরে। এছাড়া আমাদের প্রোগ্রামে অংশ নেয়া অধিকাংশই এখন এ অঞ্চলে নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগে সবকিছু পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। গাজার অধিবাসীরাও পুনরায় কাজে যুক্ত হচ্ছিল। কিন্তু নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় সব পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেছে।’
টিএপি ফিলিস্তিনিদের জন্য দেড় শতাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সারদের কাজের পরিবেশ তৈরি করে দেয়া এনজিও হোপহাবের সঙ্গেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। মূলত ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের ট্যাপ এডুকেশন ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্যালেস্টাইন ফিউচার নামে একটি ক্যাম্পেইনও চালু করেছে হোপহাব। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, লিংকডইন থেকে শুরু করে বিশ্বের এক হাজারের বেশি পেশাদারের সঙ্গে ফিলিস্তিনের এক হাজার তরুণকে যুক্ত করা এর লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার সম্পর্কিত কোচিং, মেন্টরশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে।
ক্রস বাউন্ডারির প্রিন্সিপাল ও ব্যাংক অব প্যালেস্টাইনের বিনিয়োগ উপদেষ্টা রায়ান স্টারগিল বলেন, ‘ফিলিস্তিনের অনেক অধিবাসীর জন্য প্রযুক্তি খাত জীবনযাপনের অন্যতম মাধ্যম ছিল। অক্টোবরের শুরু থেকে এটি পশ্চিম তীরের অধিবাসীদের জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পশ্চিম তীরে যে সহিংসতা চলমান রয়েছে, এর প্রভাবে অনেক কোম্পানি কর্মীদের কাজে ফেরানোর পাশাপাশি ভালোভাবে যোগাযোগও করতে পারছে না।’
গাজার বিভিন্ন অংশের অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেসব জায়াগায় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক পুনঃস্থাপনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান রায়ান স্টারগিল।










